

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হোয়াইট হাউজের ফাঁস হওয়া কিছু নথি প্রকাশ করেছে, যা মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর সহায়তায় ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি আরব দেশ একটি নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামো গড়ে তুলেছে এবং তা সম্প্রসারণ করেছে।
নথি অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধসহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন সংঘাতের সময় ইসরাইল এবং ছয়টি আরব দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেন্টকমের তত্ত্বাবধানে আঞ্চলিক হুমকি, ইরান এবং গাজার ভূগর্ভস্থ টানেল বা সুড়ঙ্গ ধ্বংসের কৌশল নিয়ে বৈঠক ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আরব সরকারগুলো গাজা যুদ্ধের সমালোচনা করলেও নীরবভাবে ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরে কাতারে ইসরাইলি হামলার পর সামরিক সম্পর্ক সাময়িক সংকটের সম্মুখীন হলেও বর্তমানে গাজায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে এই দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে বাহরাইন, মিশর, জর্ডান ও কাতারে ইসরাইল ও এই ছয় আরব দেশের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে ট্রাম্পের গাজা-সংক্রান্ত পরিকল্পনার প্রতি সবুজ সংকেত প্রদান করা হয়েছে।
নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাসে কাতারের আল উদাইদ ঘাঁটিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইসরাইলি প্রতিনিধি বিমানযোগে ঘাঁটিতে পৌঁছান এবং বেসামরিক প্রবেশপথ এড়িয়ে যেকোনও নজর এড়ানোর চেষ্টা করেন।
এই গোপন কাঠামোর অংশীদার দেশগুলো হলো ইসরাইল, কাতার, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। কুয়েত ও ওমানকেও ‘সম্ভাব্য অংশীদার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের বৈঠকের সব তথ্য জানানো হয়।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ন্যাশভিলের ফোর্ট ক্যাম্পবেল ঘাঁটিতে একটি অধিবেশনে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা আরব ও ইসরাইলি অংশীদারদের সঙ্গে ভূগর্ভস্থ টানেল শনাক্তকরণ ও ধ্বংসের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এছাড়াও ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলার জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিকল্পনার অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হয়।
নথি অনুসারে, এই সিস্টেমের অধীনে অংশীদার দেশগুলো একত্রে সমন্বিত সামরিক মহড়া চালিয়েছে এবং রাডার ও সেন্সর তথ্য মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ভাগাভাগি করেছে। সৌদি আরব এতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, কারণ তারা ইসরাইল ও আরব অংশীদার দেশগুলোকে বিভিন্ন সামরিক তথ্য সরবরাহ করেছে।
নথি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে এই অংশীদারিত্ব নতুন কোনো জোট গঠন করবে না এবং সমস্ত সভা গোপনীয়তার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত তিন বছরে এই উদ্যোগের ফলে ইসরাইল এবং অংশীদার দেশগুলো একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলেছে, যা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকির মোকাবিলায় ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে, ৯ সেপ্টেম্বর কাতারে ইসরাইলি হামলার সময় এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।
মন্তব্য করুন
