

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশ বাছাই এখন আর শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং বা জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে না, বরং খরচ, মানসম্মত শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ, এই তিনটি বিষয়ই এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রধান চিন্তা।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত গালফ নিউজ এডুফেয়ার ২০২৫–এ শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।
স্কোর প্লাস এডুকেশনের সিনিয়র ইংরেজি শিক্ষক ও ইউনিভার্সিটি প্রিপ কাউন্সিলর কাইলি অ্যান স্নিৎসার বলেন,
“বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা যত আগেই শুরু করা যায়, ততই ভালো। দেশের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোন প্রোগ্রাম বা মেজর বেছে নিচ্ছেন। কারণ আপনি তিন থেকে চার বছর সেই বিষয়ে পড়বেন— তাই নিজের আগ্রহ, দক্ষতা ও একাডেমিক উপযোগিতা সবচেয়ে আগে বিবেচনা করতে হবে।”
অন্যদিকে ওয়াই-অ্যাক্সিসের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার গগনদীপ সিং বলেন, এখন একটি দেশকে এককভাবে সেরা বলা কঠিন। এশিয়ার দেশগুলো, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্য, সবখানেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ছে। আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজস্ব ক্যাম্পাস খুলছে। একই সঙ্গে কাতার ও সৌদি আরবও দ্রুত বিকাশমান গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার সময় শুধু র্যাংকিং নয়, শিক্ষক মান, পাঠ্যক্রমের আধুনিকতা এবং স্নাতকোত্তর কর্মসংস্থানের সুযোগগুলোও খতিয়ে দেখা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা জটিলতা বা আবাসন ব্যয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা এখনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে পছন্দের দেশ। গগনদীপ সিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ইন্টার্নশিপের সুযোগ অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়।
অন্যদিকে স্নিৎসার শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন নমনীয় থাকতে এবং যেসব বিষয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আছে সেগুলোর ওপর মনোযোগ দিতে।
ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয়, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও আরও কয়েকটি এশীয় দেশ সংস্কৃতি ও শিক্ষার মিশেলে আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও ধীরে ধীরে বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা হাবে পরিণত হচ্ছে। গগনদীপ সিং জানান, আমিরাতের আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন শিক্ষার্থীদের স্থানীয়ভাবে কোর্স সম্পন্ন করা কিংবা এক বছর পর বিদেশে ট্রান্সফার হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। এতে শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের পথও খুলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে খরচ শুধু টিউশন ফি নয়, বরং বসবাস, পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আগেভাগে আর্থিক পরিকল্পনা করা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি আংশিক কাজের অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
স্নিৎসার অবশ্য সতর্ক করে বলেন, শুধু কম খরচের জন্য কখনোই শিক্ষার মানের সঙ্গে আপস করা উচিত নয়।
মন্তব্য করুন
