

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস–২ মিশনের নভোচারীরা ১০ দিনের সফল অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টার দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে নাসার ওরিয়ন ক্যাপসুল নিরাপদে অবতরণ করে।
অবতরণের কিছু সময় পর উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় ক্যাপসুল থেকে বের হন চার নভোচারী— রেইড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। তাদের মধ্যে তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের এবং হ্যানসেন কানাডার নাগরিক।
গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে আর্টেমিস–২। নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযানে আর্টেমিস ২ পৃথিবীর দুই অক্ষপথ প্রদক্ষিণের সময় ১১ লাখ ১৭ হাজার ৫১৫ কিলোমিটার এবং চাঁদের চূড়ান্ত ফ্লাইবাই-এর ২ লাখ ৫২ হাজার মাইল অতিক্রম করেছে। মহাকাশে কোনো গ্রহ বা অন্য কোনো বস্তু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য তার পাশ দিয়ে অনুসরণ করার পথকে ফ্লাইবাই বলা হয়। ফ্লাইবাইয়ের সময় মহাকাশযানটি খুব কাছ দিয়ে যায়, কিন্তু মহাকর্ষের টানে কোনো কক্ষপথে ‘আবদ্ধ’ হয় না।
এদিকে পৃথিবীতে ফেরার প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও শ্বাসরুদ্ধকর। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলের বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ২,৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, ফলে এটি অগ্নিগোলকের মতো হয়ে ওঠে। তীব্র তাপের কারণে সাময়িকভাবে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সাগরে অবতরণের পর ক্যাপসুল ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকাজ কিছু সময় বিলম্বিত হয়।
তবে ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা নভোচারীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিলেন এবং সবাই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে নাসা। উদ্ধারকাজে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। পরে নভোচারীদের একটি নৌজাহাজে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে তারা টেক্সাসের হিউস্টনে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই মিশনটি নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপোলো ১৩ মিশনের-এর পর এটিই মানুষের অংশগ্রহণে সবচেয়ে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমকারী চন্দ্রাভিযান। এছাড়া এই প্রথম কোনো নারী নভোচারী হিসেবে ক্রিস্টিনা কোচ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে কানাডার জেরেমি হ্যানসেন এই মিশনে অংশ নেন।
ভবিষ্যতে ২০২৮ সালের মধ্যে পুনরায় মানুষকে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্যে পরিচালিত আর্টেমিস কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এই মিশন।
মন্তব্য করুন
