শুক্রবার
১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের দাম কবে স্বাভাবিক হবে, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হয়েছে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এর প্রভাব খুব একটা দেখা যায়নি। কেননা, যুদ্ধ বিরতি ঘোষণার পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলার পর ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত স্বাভাবিক হবে কবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘোষিত নাজুক যুদ্ধবিরতির পরও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। তারা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে, যা কয়েক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সংঘাতের জেরে ইরান গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি চলাচল সীমিত করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে ১২০–১৪০টি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করত, সংঘাতের সময় তা নেমে আসে হাতে গোনা কয়েকটিতে। যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও অন্যান্য জ্বালানির বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এই খাত পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতোমধ্যে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ জলপথটি কার্যত বন্ধ ছিল। চুক্তি অনুযায়ী এটি খুলে দেওয়া হলেও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

যুদ্ধের কারণে বিশাল আকৃতির তেলবাহী ট্যাংকারগুলো বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই জাহাজগুলো ফের উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরে এসে তেল লোড করতে কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে।

এছাড়া দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং অনশোর স্টোরেজ (তীরবর্তী মজুতাগার) পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক তেল উৎপাদনকারী দেশ তাদের কূপগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল। যুদ্ধের সময় অনেক জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যা মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন