শুক্রবার
১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাল ভোট দিতে এসে বিয়ে ভেঙে গেলো কিশোরীর, উভয় সংকটে পরিবার! 

এনপিবি স্যাটায়ার
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
গ্রাফিক্স : এনপিবি, এআই
expand
গ্রাফিক্স : এনপিবি, এআই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াত এমপি প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত করা হয় শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ। অবশেষে ৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ আসনের পাশাপাশি এই আসনটিতেও ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে ভোটগ্রহণ চলছিল। এর মাঝে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবর্দী উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে অনিয়মের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থী দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেন।

কিন্তু তার আগে কিছু ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়ে যায় বিভিন্ন কেন্দ্রের। একটিতে দেখা যায় এক কিশোরী তার নানীর সাথে ভোট কেন্দ্রে লাইনে এসে দাঁড়িয়ে আছে। তখন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করায় সে নানীর কাঁধে মুখ লুকায়। ষোড়শী তখনও কিশোরীসূলভ হাসি দিয়ে বিষয়টাকে আড়াল করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু সাংবাদিকের ধূর্ত ক্যামেরা তাকে এক মুহুর্তের জন্যও ছাড়েনি। কোনো জবাব দিতে না পেরে লাইন ছেড়ে বেলাইনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সে। তখন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করায় জবাব দেয়- 'আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। এটা অবিবাহিত অবস্থায় শেষ ভোট। ২০১৮ ও ২০২৪ সালে কয়েকশো ভোট দিয়েছি। অনেকদিনের অভ্যাসতো তাই ছাড়তে পারিনি'।

কিশোরী আরও বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভোট হওয়ার ঘোষণা এলে মনে আশা বেঁধেছিলাম হাজার খানেক ভোট দিয়ে রেকর্ড করবো। কিন্তু তা আর হলো না, স্থগিত হয়ে গেলো নির্বাচন। এখন আবার নির্বাচনের ডেট হলো। ভোট দিতে নানীর সাথে এসে দাঁড়ালাম। কিন্তু ঢাকা থেকে এসে আপনারা (সাংবাদিকরা) বজ্জাতি শুরু করেছেন'।

এরপর স্মিত হেঁসে কিশোরী অনতিদূর দাঁড়িয়ে থাকলেও সাংবাদিকের মন গলাতে পারেনি৷ ক্যামেরা প্রস্তুত রেখে দাঁড়িয়ে থাকার পর এক পর্যায়ে কি ভেবে যেন কিশোরী দৌড় দিয়ে ভোট কেন্দ্র থেকে চলে গেলো। একটা কিশোরীর এমন দৌড় দেখে ভোটকেন্দ্রের সবার মনযোগ তার দিকে চলে যায়। সাংবাদিকও এই ভিডিও প্রকাশ করেন। সারাদেশে মুহুর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। এলাকায় কিশোরীর দৌড় দেওয়া নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন ধরা পড়ার ভয়ে দৌড়, কেউ বলছেন ভোট দেওয়ার আনন্দে দৌড় দিয়েছেন। এটা এখন ওই এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

কিন্তু এরইমধ্যে ঘটে গেছে আরও একটি ঘটনা। তার সাথে যে ছেলের বিয়ে ঠিক হয়েছিলো সে প্রবাসে অবস্থান করছে। আগামী ঈদে বাড়িতে এসে কবুল বলার অপেক্ষায় আছে সে। হবু স্ত্রীর (ঐ কিশোরী) জন্য একটা আইফোন ১৮+ কিনেছে। ফেসবুকে তার হবু স্ত্রীর এভাবে ভাইরাল হয়ে যাওয়াটা সে মানতে পারেনি৷ মূলত সে প্রবাসে থাকলেও দেশের ভোটাধিকার নিয়ে বেশ সচেতন। পোস্টাল ব্যালটে ভোটও দিয়েছিল। তাই সচেতন নাগরিক হিসেবে তার হবু স্ত্রীর এমন কাজে মনোকষ্টে সিদ্ধান্ত নেয় এই বিয়ে করবে না। কারণ যে মেয়ে আরেকজনের হয়ে ভোট দিতে পারে, সে তার স্ত্রী হলে আরেকজনের স্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারে। আইফোন ১৮+ এর বক্স খুলে সে টিকটকে 'আমার এ মন পাথর ভেবে আঘাত তুমি করেছো' গানের সাথে লিপসিং করে আপলোড দিয়েছে।

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার এই খবরে ঐ কিশোরীর বাবা বারান্দায় বসে মাথার চুল টানছেন। তার মা বিলাপ করে কান্না করছেন। কিশোরী ঘরে ঢুক দরজা বন্ধ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন 'মন ভাঙা আর মসজিদ ভাঙা সমান কথা। ভাঙা মন লাগেনাতো জোড়া'। কিশোরীর বাবার রাজনৈতিক সহকর্মীরা এসে পরামর্শ দিলেন তার লগ্নভ্রষ্টা মেয়ের জামাইয়ের নামে প্রতারণা ও অবৈধভাবে বিয়ে ভাঙার মামলা টুকে দেয়ার। কিন্তু কিশোরীর বাবা পড়েছেন উভয় সংকটে। তার মেয়ের বর্তমান বয়স ১৫ বছর ৯ মাস ১৩ দিন। এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। তাই মামলাও করতে পারছেন না। অভিযোগ জানাতে গেলে পড়তে পারেন বাল্যবিয়ে দেওয়ার মামলায়। কারণ তার মেয়ের নাম সিমরান লুবিবা না।

এখন তিনি দলবলে সেই সাংবাদিককে খুঁজছেন৷ আর বলছেন, সব দোষ সাংবাদিকের৷ সে কেন ঢাকা থেকে শেরপুরে এলো? না আসলে এতবড় ঝামেলা হতো না।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন