

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানুষকে স্বেচ্ছাচারী জীবনের উচ্ছৃঙ্খলতা থেকে রক্ষা করতে বিয়ে-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছে ইসলাম। বিয়েবদ্ধ জীবনে রয়েছে শৃঙ্খলা। রয়েছে প্রশান্তি ও আত্মার তৃপ্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর (আল্লাহ) নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)
আল্লাহ আরও বলেন, ‘তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিতদের বিয়ে করিয়ে দাও এবং তোমাদের সৎ ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসীদেরও। যদি তারা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাঁর নিজ অনুগ্রহে ধনী বানিয়ে দেবেন।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৩২)
কাদের বিয়ে করা যাবে, কাদের বিয়ে করা যাবে না—এর একটি মৌলিক নীতি দিয়েছে ইসলাম। যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম, তাদের তালিকা এখানে দেওয়া হলো—
১. মা—তেমনিভাবে দাদি, নানি ও তাদের ওপরের সবাই।
২. বাবার স্ত্রী—বাবা মারা গেলে বা তালাক দিলেও (বাবার স্ত্রী বা সৎমা) বিয়ে করা যাবে না। এটি সন্তানের জন্য বৈধ নয়। জাহেলি যুগে এই ধরনের বিয়ে প্রচলিত ছিল, কিন্তু ইসলামে এই বিয়ে হারাম।
৩. মেয়ে—নিজের মেয়ে, ছেলের মেয়ে, মেয়ের মেয়ে ও তাদের গর্ভজাত কন্যাসন্তান।
৪. বোন—সহোদর, বৈমাত্রেয় (সৎমায়ের মেয়ে) ও বৈপিত্রেয় (সৎবাবার মেয়ে) বোন।
৫. ফুফু—বাবার সহোদর বোন এবং বাবার বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন।
৬. যে স্ত্রীর সঙ্গে দৈহিক মিলন হয়েছে, তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বামীর ঔরশজাত কন্যাসন্তান, স্ত্রীর আপন মা, নানি শাশুড়ি ও দাদি শাশুড়ি।
৭. খালা—মায়ের সহোদর বোন এবং মায়ের বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন।
৮. ভাতিজি—সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে ও তাদের পরের প্রজন্মের কন্যাসন্তান।
৯. ভাগ্নি—সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে ও তাদের পরের প্রজন্মের কন্যাসন্তান।
১০. দুধ মেয়ে—(স্ত্রীর দুধ পান করেছে এমন), সেই মেয়ের মেয়ে, দুধছেলের মেয়ে ও তাদের পরের প্রজন্মের কোনো কন্যাসন্তান এবং দুধছেলের স্ত্রী।
১১. দুধ মা এবং তার দিকের খালা, ফুফু, নানি, দাদি ও তাদের ঊর্ধ্বতন নারীরা।
১২. দুধ বোন, দুধ বোনের মেয়ে, দুধ ভাইয়ের মেয়ে এবং তাদের গর্ভজাত যে কোনো কন্যাসন্তান। অর্থাৎ দুধ সম্পর্ককে রক্তসম্পর্কের মতোই গণ্য করতে হবে।
১৩. ছেলের স্ত্রী।
১৪. এমন দুই নারীকে একসঙ্গে স্ত্রী হিসেবে রাখা যাবে না, যাদের একজন পুরুষ হলে তাদের মধ্যে বিয়ে বৈধ হতো না। যেমন—স্ত্রীর বোন, খালা, ফুফু।
উল্লিখিত ১৪ শ্রেণির নারী—যাদের কারও সঙ্গে স্থায়ীভাবে, কারও সঙ্গে অস্থায়ীভাবে বিয়ে নিষিদ্ধ, তাদের কথা পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ২২-২৪ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
