শুক্রবার
২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুরিয়ে আসছে গোলাবারুদ!

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৮ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

পেন্টাগন যে অস্ত্রগুলো ইউক্রেন থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ন্যাটোর একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় কেনা ইন্টারসেপ্টর মিসাইল। গত বছর চালু হওয়া ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ উদ্যোগের মাধ্যমে বন্ধু দেশগুলো কিয়েভের জন্য আমেরিকার কাছ থেকে সরাসরি অস্ত্র কিনত।

ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের সরাসরি নিরাপত্তা সহায়তা কমিয়ে দিলেও এই উদ্যোগের মাধ্যমেই এত দিন অস্ত্রের সরবরাহ সচল ছিল।

ন্যাটোর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত গ্রীষ্ম থেকে ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির ৭৫ শতাংশ মিসাইল এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় সব গোলাবারুদ এই কর্মসূচির মাধ্যমেই সরবরাহ করা হয়েছে। এখন সেই সরবরাহে টান পড়লে রাশিয়ার মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সামনে কিয়েভ কার্যত নিরস্ত্র হয়ে পড়বে।

এ অবস্থায় এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন ইউক্রেনের প্রধান ইউরোপীয় সমর্থকরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন যেভাবে গোলাবারুদ ব্যবহার করছে, তাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর নিজস্ব ক্রয়াদেশ বিলম্বিত হতে পারে। এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, ‘তারা যে হারে গোলাবারুদ পোড়াচ্ছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে যে এই চুক্তির মাধ্যমে তারা আর কতদিন সরবরাহ বজায় রাখতে পারবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত ২৭তম দিনে গড়িয়েছে। প্রথম আঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার পরিবারসহ হত্যার পরও দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটাতে না পেরে একের পর এক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

তবে, শক্ত জবাব দিয়ে চলেছে তেহরানও। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ভয়ংকর সব হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

সব মিলিয়ে যতটা সহজে ইরানকে পরাস্ত করবেন বলে ভেবেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা, তেমনটা তো হচ্ছেই না; বরং ইরানের জবাবের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ছে তাদের সব পরিকল্পনা। এরই মধ্যে ফুরিয়ে আসতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদও। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার তাই ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিলে রাশিয়ার সঙ্গে গত চার বছর ধরে চলামান যুদ্ধে একেবারে দুর্বল হয়ে পড়বে ইউক্রেন। অনেক বিশ্লেষকই, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনাকে তুলনা করছেন ইউক্রেনকে ‘কোরবানি’ দেওয়ার সঙ্গে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পেন্টাগন সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এ পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চার সপ্তাহেরও কম সময়ের যুদ্ধে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানে ৯ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এই বিপুল পরিমাণ হামলায় আমেরিকার নিজস্ব মজুত দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। ফলে, কিয়েভকে দেওয়ার কথা ছিল এমন গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু আধুনিক সমরাস্ত্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পাঠানোর চিন্তা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখাচ্ছেন, তার মধ্যে ওই উদ্যোগ ছিল ন্যাটোর জন্য কিয়েভকে সুরক্ষিত রাখার একটি বিকল্প পথ। ইউরোপীয়রা বিল পরিশোধ করত আর আমেরিকা অস্ত্র দিত, এতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিজয়ও নিশ্চিত হত। কিন্তু ইরান যুদ্ধ সেই সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়েছে।

পেন্টাগন ইতোমধ্যে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত থেকে প্যাট্রিয়ট এবং থাড-এর মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সরিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে নিয়ে এসেছে। উদ্দেশ্য হলো, ইরানি ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে পারস্য উপসাগরীয় মিত্র ও মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন