

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সম্প্রতি আফগানিস্তানের তালেবান সরকার নতুন আইন জারি করেছে। এই আইনে স্ত্রী ও সন্তানদের পেটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বামী অথবা পিতা কত মাত্রায় পেটাতে পারবেন, এতে বলা হয়েছে, ‘হাড় না ভাঙা পর্যন্ত’। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
আইন অনুযায়ী, স্বামী যদি 'অশ্লীল মাত্রার বলপ্রয়োগ' করে দৃশ্যমান চোট বা হাড় ভাঙার মতো আঘাত করেন, সেক্ষেত্রে তার শাস্তি সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে শর্ত হলো—ভুক্তভোগী নারীকে আদালতে গিয়ে নির্যাতনের প্রমাণ হাজির করতে হবে। তাকে পুরো শরীর ঢেকে বিচারকের সামনে ক্ষত দেখাতে হবে এবং আদালতে হাজিরার সময় স্বামী বা কোনো পুরুষ অভিভাবক সঙ্গে থাকা বাধ্যতামূলক।
আইনটি জারি করেছেন শাসক গোষ্ঠীর সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। নতুন ৯০ পৃষ্ঠার এই দণ্ডবিধি মূলত নারীদের সুরক্ষায় প্রণীত ২০০৯ সালের আইনটি বাতিল করে প্রনয়ণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কোনো বিবাহিত নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে তাকে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
দণ্ডবিধির ৯ নম্বর ধারায় আফগান সমাজকে চার শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—ধর্মীয় আলেম (উলামা), অভিজাত (আশরাফ), মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত। একই অপরাধের শাস্তি নির্ধারণে অপরাধের গুরুত্ব নয়, বরং অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থান বিবেচ্য হবে।
কোনো আলেম অপরাধ করলে তাকে কেবল উপদেশ দেওয়া হবে। অভিজাত শ্রেণির ক্ষেত্রে আদালতে তলব ও উপদেশ। মধ্যবিত্তের জন্য কারাদণ্ড।
আর নিম্নবিত্তের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পাশাপাশি থাকবে শারীরিক শাস্তি। গুরুতর অপরাধে শারীরিক শাস্তি কার্যকর করবেন ইসলামি আলেমরা, কারা কর্তৃপক্ষ নয়।
মন্তব্য করুন

