বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিটি কর্পোরেশন দিয়ে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
21323
expand
ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধির অনুপস্থিতির প্রেক্ষাপটে আবারও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এ ভোট আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসে। মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বড় তিন সিটি দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধারাবাহিকতা শুরু করতে চায় কমিশন। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি নয়টি সিটি করপোরেশনেও নির্বাচন দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। সে সময় বড় তিন সিটিতে ভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়।

কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর যুক্তি ছিল, আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত।

আইন অনুযায়ী, কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুন। সেই হিসেবে ২০২৫ সালের ১ জুন পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ জুন এবং ২০২৫ সালের ২ জুন তাদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী এই সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি। ফলে সময়ের বিবেচনায় তিন সিটিতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়ার পর ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়োগের কাজ শুরু হবে। চট্টগ্রাম সিটির ক্ষেত্রে সময় কম থাকায় সেখানে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, নির্বাচন আয়োজন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং তারা সব সময় প্রস্তুত থাকেন। সরকারের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ঈদের পর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X