শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’, যেসব অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:০৮ এএম
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘মন্থা’। ছবি: সংগৃহীত
expand
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘মন্থা’। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ক্রমেই শক্তি সঞ্চয় করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি বর্তমানে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে এবং দ্রুত ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টার আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ২৫৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১ হাজার ৩০৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়া অফিস জানায়, নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘মন্থা’, যা থাইল্যান্ডের দেওয়া নাম। স্থানীয় ভাষায় এর অর্থ ‘সুগন্ধি ফুল’ বা ‘সুন্দর ফুল’।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, “শনিবার মধ্যরাত নাগাদ নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে এবং রোববার দুপুরের দিকেই ঘূর্ণিঝড় মন্থা হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও বাংলাদেশে তেমন উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটি শনিবার দুপুরে ১০.৮° উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮.৬° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। এটি পোর্ট ব্লেয়ার থেকে প্রায় ৪৬০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং চেন্নাই থেকে প্রায় ৯৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে ছিল।

প্রতিবেশী দেশটির আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, রবিবারের মধ্যেই এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে এবং সোমবার নাগাদ দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

পরবর্তীতে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে কাকিনাড়া ও কলিঙ্গপত্তনম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে। এই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের আশপাশে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার, দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার বেগ ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়টি যদি পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানে, তবে বাংলাদেশ উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও সামান্য জোয়ার বৃদ্ধি ঘটতে পারে। উপকূলীয় জেলাগুলোকে তাই সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন