মঙ্গলবার
০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাবিপদের পূর্বাভাস, ধেয়ে আসছে ‘এল নিনো’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে ভয়ংকর পূর্বাভাস জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ডব্লিউএমও। পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি জুন থেকে আগামী আগস্টের মধ্যেই ‘এল নিনোর’ সম্মুখীন হতে পারে বিশ্ব। এটি এমন এক ধরনের জলবায়ু অবস্থা, যখন তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে খরাসহ নানা আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি তৈরি হয়।

মঙ্গলবার (২ জুন) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে ডব্লিউএমও। উষ্ণমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএমও। এটি বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক নিয়মে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। আর চলতি বছরের নভেম্বর নাগাদ এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বজায় থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে কিছু অঞ্চলে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আঞ্চলিক জলবায়ু কেন্দ্রগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে কম মৌসুমি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, বনভূমিতে অগ্নিকাণ্ড এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় কম মৌসুমি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে কৃষি, পানিসম্পদ ও খাদ্য উৎপাদনের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ডব্লিউএমও জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনো আগের তুলনায় বেশি হচ্ছে বা আরো শক্তিশালী হচ্ছে, এমন স্পষ্ট প্রমাণ নেই। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর প্রভাবকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে। ফলে তাপপ্রবাহ, ভারি বৃষ্টিপাত এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরো তীব্র হতে পারে।

এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যা ঘটে যখন মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সমুদ্রের এই উষ্ণতা বায়ুমণ্ডলের ওপর প্রভাব ফেলে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টি, তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহের স্বাভাবিক ধরন বদলে দেয়।

সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো ফিরে আসে এবং প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হতে পারে। এর বিপরীত পর্যায় হলো ‘লা নিনা’, যেখানে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন