

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আছে হাতে গোনা আর মাত্র কয়েক দিন। তবে এরই মধ্যে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টটি ঘিরে কম জল্পনা কিংবা বিতর্ক সামনে আসেনি।
প্রথমে নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে গিয়ে এই টুর্নামেন্ট খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। নানা আলোচনা-সমালোচনা এবং রুদ্ধদার বৈঠকের পর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
এ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে পাকিস্তানও। গুঞ্জন উঠেছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরটি বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা। এনিয়ে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সিদ্ধান্ত জানাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
এদিকে এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়তে যাচ্ছে ভারত। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার কারণে ভারতের ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজক হওয়ার প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, খেলাধুলায় রাজনীতির অনুপ্রবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কড়া মনোভাবই ভারতের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিসিসিআইয়ের নির্দেশে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রেক্ষাপট হিসেবে অবশ্য বলা হয়েছিল, ‘কট্টরপন্থীদের’ হুমকির মুখেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতে গিয়ে না খেলে বিকল্প ভেন্যু অর্থাৎ শ্রীলঙ্কায় খেলার আবেদন জানিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন নাকচ হয় এবং বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়।
গার্ডিয়ান বলছে, বাংলাদেশকে ভারতেই খেলার কথা বলার সিদ্ধান্তটি আইসিসির। তবে এ বিষয়ে বিসিসিআইয়েরও হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর না করতে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আইসিসিতে তদবির করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘আইসিসি কাগজে-কলমে স্বাধীন হলেও ভারতের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইতিহাস তাদের পুরোনো। ২০২৪ বিশ্বকাপে আর্থিক ও সম্প্রচার স্বত্বের খাতিরে ভারতকে গায়ানায় সেমিফাইনাল খেলার আগাম নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে বেশ সমালোচনাও হয়।’
বর্তমানে আইসিসিতে ভারতীয়দের আধিপত্যের কথা কারও অজানা নয়। ভারত সরকারের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এমনকি আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন; তাঁর বাবা অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এছাড়া আইসিসির বর্তমান প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা আগে জিও-স্টারের স্পোর্টস প্রধান ছিলেন, যে প্রতিষ্ঠানটি ভারতে আইসিসির সব ইভেন্টের একচেটিয়া সম্প্রচারের স্বত্বাধিকারী।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজে সময়ে এই রাজনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে ভারত। গত মাসে দিল্লির ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এখন ভারতের পাখির চোখ ২০৩৬ সালের আহমেদাবাদ অলিম্পিক। যেখানে তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কাতার।
সূত্রের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান বলছে, অন্য দেশগুলো বয়কট করতে পারে, এমন কোনো ঝুঁকি থাকলে ভারতকে গেমস আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়াটা আইওসির জন্য প্রায় ‘অকল্পনীয়’। অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে চলতে হয় এবং অলিম্পিক চলাকালীন যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতপ্রকাশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
আইওসির এমন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রমাণ অতীতে একাধিকবার পাওয়া গিয়েছি। ২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজক হতে চেয়েছিল ইন্দোনেশিয়াও। তবে গত অক্টোবরে জাকার্তায় বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলকে ভিসা দিতে অস্বীকার করায় ইন্দোনেশিয়াকে অলিম্পিক আয়োজনের দৌড় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গার্ডিয়ানকে আইওসির ওই সূত্র আরও বলেছে, অলিম্পিক আয়োজনের যোগ্য আয়োজক হিসেবে বিবেচিত হতে চাইলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির শক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে ভারতকে।
মন্তব্য করুন
