শনিবার
০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনা-উরুগুয়েসহ যেসব দেশ বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
সংগৃহীত
expand
সংগৃহীত

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার ফিফার প্রস্তাবকে ঘিরে সম্প্রতি বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

পরে সেই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানায় উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও। শেষ পর্যন্ত ফিফা বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও বিশ্বকাপ বর্জনের ঘটনা ফুটবল ইতিহাসে নতুন নয়।

রাজনৈতিক বিরোধ, সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব এবং বৈষম্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন সময়ে একাধিক দেশ বিশ্বকাপ বা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব বয়কট করেছে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম বড় বয়কটের ঘটনা ঘটে ১৯৩৪ সালে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ও চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ইতালিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আসরে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রথম বিশ্বকাপে অনেক ইউরোপীয় দেশ উরুগুয়েতে যেতে রাজি না হওয়ায় তারই প্রতিক্রিয়াস্বরূপ চার বছর পর ইতালির বিশ্বকাপ বর্জন করে দেশটি।

১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ আমেরিকায় আসরটি আয়োজনের দাবি জানিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফিফা ফ্রান্সকে আয়োজক ঘোষণা করলে ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় আলবিসেলেস্তারা।

১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়ে ফুটবলেও। ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও সুদান। ফলে কোনো ম্যাচ না খেলেই মূল পর্বের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় ইসরায়েল। তবে প্লে-অফে ওয়েলসের কাছে হেরে তাদের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।

১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের আগে বৈষম্যমূলক বাছাই ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায় আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (ক্যাফ)। ইউরোপের জন্য ১০টি স্থান বরাদ্দ থাকলেও আফ্রিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়ার জন্য ছিল মাত্র একটি টিকিট। এর প্রতিবাদে ক্যাফভুক্ত ১৫টি দেশ একযোগে বাছাইপর্ব বয়কট করে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত বয়কটের ঘটনা ঘটে ১৯৭৩ সালের বাছাইপর্বে। চিলিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সান্তিয়াগোতে প্লে-অফ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। ফিফা ভেন্যু পরিবর্তনে রাজি না হওয়ায় নির্ধারিত দিনে প্রতিপক্ষ ছাড়াই মাঠে নামে চিলি। আনুষ্ঠানিকভাবে একটি গোল করার পর ম্যাচ শেষ ঘোষণা করা হয় এবং চিলিকে বিজয়ী ঘোষণা করে মূল পর্বে উন্নীত করা হয়।

ফুটবল ইতিহাসের এসব ঘটনা প্রমাণ করে, বিশ্বকাপ শুধু মাঠের প্রতিযোগিতা নয়; বরং বিভিন্ন সময়ে রাজনীতি, কূটনীতি, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও এই আসরের গতিপথকে প্রভাবিত করেছে। সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে বিতর্ক আপাতত থেমে গেলেও, বিশ্বকাপ বয়কটের সেই পুরোনো ইতিহাস আবারও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন