

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিখোঁজ আর্জেন্টাইন ফুটবলারের। এমন সংবাদ ছাপা হয়েছিল দু’দিন আগে। অবশেষে খবর এলো, আর্জেন্টিনার সেই ফুটবলারের স্ত্রী এবং সন্তানরা আর বেঁচে নেই। ভূমিকম্পে নিহত হয়েছে তারা।
১৯৮৭ সালে আর্জেন্টিনার কর্ডোবায় জন্ম নেওয়া লুকাস ত্রেহো পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনা, স্পেন, গ্রিসের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। তবে গত ১০ বছর ধরে তিনি ভেনিজুয়েলার বিভিন্ন ক্লাবে ফুটবল খেলতেন। বর্তমানে তিনি ভেনিজুয়েলার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব মারিতিমো দে লা গুয়াইরাতে খেলছেন।
দীর্ঘদিন ভেনিজুয়েলায় খেলার সুবাদে তিনি ঘরও বেধেছেন এখানেই। দেশটির লা গুয়াইরা অঞ্চলের প্লায়া গ্র্যান্ডেতে একটি অ্যাপার্টমেন্টে সপরিবারে থাকতেন ত্রেহো। গত ২৪ জুন জোড়া ভূমিকম্প যখন আঘাত হানে, তখন নিজ ক্লাবের হয়ে ‘কোপা ভেনিজুয়েলা’র একটি ম্যাচ খেলার জন্য তিনি রাজধানী কারাকাসে অবস্থান করছিলেন।
ভেনেজুয়েলার ক্লাব দেপোর্তিভো লা গুয়াইরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং তাদের দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়া ত্রেহো।
ভেনেজুয়েলার ইয়ারাকুই অঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ধসে পড়ে একটি আবাসিক ভবন। ওই ভবনেই অবস্থান করছিল ত্রেহোর পরিবার। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পরিবারের সন্ধানে শুরু থেকেই মরিয়া ছিলেন এই ডিফেন্ডার। স্বজন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে মিলে স্ত্রী ও সন্তানদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালান তিনি। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় পরিবারের জন্য প্রার্থনাও চেয়েছিলেন।
তিনি লিখেছিলেন, তাদের ভবন ধসে গেছে এবং পরিবারের কোনো সদস্যের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সবাইকে পরিবারের জন্য দোয়া করতে এবং কোনো তথ্য থাকলে জানাতে অনুরোধ করেছিলেন তিনি।
দেপোর্তিভো লা গুয়াইরা শোক প্রকাশ করে জানায়, লুকাস ত্রেহো ও তার পরিবারের প্রতি ক্লাবের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা রইল। তারা প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করেছে।
ত্রেহোর পরিবার উপকূলীয় প্লায়া গ্রান্দে এলাকায় থাকত, যা ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি। সেখানকার আবাসিক ভবন ধসে পড়ার পরই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
