রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবলে জার্সি খুললে কেন হলুদ কার্ড খেতে হয়?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ফুটবল মানেই মাঠ কাঁপানো উত্তেজনা আর বাঁধভাঙা আবেগ। এই আবেগের সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ ঘটে গোলের পর। আর গোলের পর জার্সি খুলে ভোঁ-দৌড় দেওয়া একসময় ফুটবলারদের আইকনিক উদযাপন বা ট্রেডমার্ক স্টাইল ছিল।

কিন্তু এখন এই চেনা দৃশ্যের পরিণতি- একটি হলুদ কার্ড। নিয়মের বেড়াজালে বন্দি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মনে হতেই পারে, ফুটবলারদের বুঝি রোবট বানানোর চেষ্টা চলছে!

২০০৪ সালের আগে জার্সি খোলা নিয়ে কোনো কড়া নিয়ম ছিল না। কিন্তু এরপরই ফিফার আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (IFAB) নিয়মবইয়ের ১২ নম্বর উপধারায় গোল উদযাপনের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যেমন- নিরাপত্তা বেষ্টনি ডিঙানো, উস্কানিমূলক অঙ্গভঙ্গি, মুখ ঢেকে রাখা এবং জার্সি খোলা বা মাথায় বাঁধা। নিয়ম ভাঙলে শাস্তি একটাই- হলুদ কার্ড।

নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ফুটবলাররা কি পুরোপুরি থেমেছেন? একদম না। তবে এখন তারা হিসাব কষে ঝুঁকি নেন। সাধারণত খেলার শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল পেলে বা আগে কোনো হলুদ কার্ড না থাকলে তবেই জার্সি খোলেন। কারণ, আগে একটা হলুদ কার্ড থাকলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের চোটে সরাসরি লাল কার্ড খেয়ে মাঠ ছাড়তে হবে।

২০১২ সালে হ্যানোভারের খেলোয়াড় শাবোল্কস হাসজতি গোল করে জার্সি খোলার পাশাপাশি গ্যালারির বেষ্টনি ডিঙিয়ে দর্শকদের কাছে চলে যান। একসঙ্গে একাধিক নিয়ম ভাঙায় রেফারি তাকে জোড়া হলুদ কার্ড অর্থাৎ লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন।

খেলোয়াড় ও সমর্থকদের চরম অপছন্দের এই নিয়মের পেছনে কারণ-

স্পন্সরদের স্বার্থ রক্ষা: ক্লাব বা জাতীয় দলের জার্সিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে স্পন্সররা। গোলের মুহূর্তের ছবিগুলোই বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি প্রচারিত হয়। ওই সময়েই যদি খেলোয়াড়ের গায়ে জার্সি না থাকে, তবে স্পন্সররা তাদের লোগো প্রচারের মোক্ষম সুযোগটি হারায়।

মাত্রাতিরিক্ত উদযাপন রোধ: জার্সি খুলে বুনো উল্লাস অনেক সময় প্রতিপক্ষ দল বা তাদের সমর্থকদের উস্কে দেয়, যা মাঠের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। যদিও ২০১২ সালে আগুয়েরোর ম্যানচেস্টার সিটিকে শিরোপা জেতানো গোলের পর জার্সি খোলার পেছনে কোনো উস্কানি ছিল না, ছিল নিখাদ আবেগ।

বার্তা ছড়ানো বন্ধ করা: খেলোয়াড়েরা যেন জার্সির নিচে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা বিতর্কিত বার্তা লিখে প্রচার করতে না পারেন, সেজন্য এই কড়াকড়ি। ১৯৯৫ সালে রবি ফাউলার জার্সির নিচে একটি কোম্পানির ছাঁটাই প্রক্রিয়ার প্রতিবাদী বার্তা দেখিয়ে জরিমানা গুনেছিলেন।

আবার ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা প্রয়াত সতীর্থ দানি জার্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আবেগঘন বার্তা লিখেও নিয়মের কারণে হলুদ কার্ড পান। এমনকি মারিও বালোতেল্লির সেই বিখ্যাত "Why Always Me?" বার্তার পেছনেও ছিল নিয়মের নিষেধাজ্ঞা।

খেলোয়াড় সনাক্তকরণ: ডিয়েগো ফোরলান একবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে গোল করে জার্সি খোলার পর তা আর ঠিকঠাক গায়ে পরতে পারছিলেন না। শেষমেশ জার্সি হাতে নিয়েই খালি গায়ে খেলা শুরু করেন! রেফারির মতে, এতে খেলোয়াড় চেনার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

আইনের মারপ্যাঁচে জার্সি খোলাকে 'অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ' মনে করা হলেও, সমর্থকদের চোখে এটি আনন্দের মুহূর্তে এক বেরসিক বাধা। তবে দিনশেষে ফুটবলকে সুশৃঙ্খল রাখা, প্রতিপক্ষকে সম্মান জানানো এবং এই সুন্দর খেলার মর্যাদা ধরে রাখতেই ফুটবলারদের এই নিয়মটি মেনে চলতে হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন