

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি মৌসুমে একের পর এক চমক দেখিয়ে আসছে নরওয়েজিয়ান ক্লাব বোডো/গ্লিমট। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ঘরের মাঠে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল দলটি। এর আগে আরেক ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের সাথে ২-২ গোলের ড্র করেছিল দলটি।
এবার নক আউট পর্বে (প্লে অফ) গতবারের রানার্স আপ ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো মৎসজীবীদের শহরের এই দল।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্লে অফের দ্বিতীয় লেগে ইতালির বিখ্যাত সান সিরো স্টেডিয়াম স্তব্ধ করে ২-১ গোলের দারুণ এক জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দলটি। এর আগে প্রথম লেগে নিজেদের ঘরের মাঠে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছিল দলটি। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে দলটি।
এমন ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক অবশ্য এই সান সিরোর পুরোনো এক তারকা। আরেক ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানের সাবেক খেলোয়াড় পিটার হাউগে। এদিন নিজের পুরোনো শহরে ফিরে যেন সমস্ত হিসেব চুকিয়েই গেলেন। ইন্টারের জালে একবার বল পাঠানোর পাশাপাশি একটি দারুণ এসিস্ট করেছেন তিনি।
ম্যাচের পরিসংখ্যানে অবশ্য যোজন দূর এগিয়ে ছিল ইন্টার মিলান। পুরো ৯০ মিনিটে ৩৩ বার গোল অভিমুখে শট নিয়ে থুরাম-বারেল্লারা। বিপরীতে মাত্র ৭টি শট নিয়েছে বোডো। তাছাড়া ৭০ শতাংশ সময় নিজেদের দখলেই বল রেখেছে ‘নাজ্জুরিরা’।
তবে পরিসংখ্যান যে সব সময় কথা বলে তা নয়। ইতিহাসের পাতা ওলট-পালট আর সান সিরোকে স্তব্ধ করে শেষ হাসি হেসেছে মাত্র ৪০ হাজার জনসংখ্যার শহরের ক্লাব বোডো/গ্লিমট।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই বোডোর রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে একাধিকবার আক্রমনে গেলেও গোলের দেখা পায়নি ইন্টার মিলান। ফেডেরিকো ডিমার্কো, মার্কুস থুরামদের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন গোলরক্ষক হাইকিন।
প্রথমার্ধে নরওয়েজিয়ানদের একমাত্র উল্লেখযোগ্য সুযোগটি আসে ৩৬ মিনিটে। কিন্তু সোমারের হাতে সহজ শট তুলে দেন ইভিয়েন।
তবে খেলার চিত্র পুরো পাল্টে যায় দ্বিতীয়ার্ধে। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে ইন্টার ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে যায় পিটার হাউগে। সেখান থেকে তার নেওয়া শট ইয়ান সোমার প্রথমবার ফেরাতে সক্ষম হলেও দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় বল ঠিকই জালে পাঠান তিনি।
৬৮তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো ইন্টার মিলান। তবে ভাগ্য দোষে এই যাত্রায় সমতায় ফেরা হয়নি। ডিমার্কোর পাস থেকে ফাঁকা পোস্টে গোলের উদ্দেশ্যে শট নেন আকাঞ্জি। তবে গোল পোস্টের কল্যাণে এ যাত্রায় বেঁচে যায় বোডো।
এর মিনিট পাঁচেক পর কাউন্ডার এট্যাক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বোডো। এবার ডান প্রান্ত থেকে হাউগের ক্রস থেকে সান সিরোকে স্তব্ধ করে দেন ইভজেন।
এরপর অবশ্য একটি গোল শোধ করেন ইন্টার ডিফেন্ডার বাস্তোনি। তবে সেটি কেবলই ব্যবধান কমানো। ৭৬তম মিনিটে তার করা গোলের পর রক্ষণ শক্ত করে ইতিহাস ধরে রাখে নরওয়ের দলটি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বোডো।
মন্তব্য করুন

