

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র নবাগত কেপ ভার্দে। প্রায় পুরো ম্যাচজুড়েই আধিপত্য করলেও গোলের দেখা না পাওয়ায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। অন্যদিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ আর দুর্দান্ত গোলরক্ষক পারফরম্যান্সে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের আগমনী বার্তা দিয়েছে কেপ ভার্দে, যারা শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়েই ইতিহাস গড়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে। মাঝমাঠে নিজেদের স্বাভাবিক পাসিং খেলা সাজিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও কেপ ভার্দের গুছানো রক্ষণভাগ বারবার সেই ছন্দ ভেঙে দেয়। বিশেষ করে মাঝমাঠে চাপ সৃষ্টি করে স্পেনের খেলাকে কার্যত স্থবির করে রাখে আফ্রিকার এই নবাগত দলটি। ফলে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষের বক্সে কার্যকর আক্রমণ তৈরি করতে হিমশিম খেতে হয় স্পেনকে।
এই ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রিয়াল সোসিয়াদাদের হয়ে খেলা স্পেনের ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল। তিনি ম্যাচের একটি পর্যায়ে টানা প্রায় ৩০ মিনিট তিনি বলের কোনো স্পর্শই পাননি। ১৯৬৬ সালের পর ডাটা সংরক্ষণের পর থেকে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে কোনো ফুটবলারের এটা প্রথম ঘটনা। কেপ ভার্দের রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা এবং চাপ তৈরির কৌশলের কারণেই স্পেনের আক্রমণভাগ বারবার নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে।
তবুও প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। একবার ফার্নান্দো তোরেসের নেয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, আর ওইয়ারসাবালের একটি হেড দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। লাপোর্ত ও অন্যান্য ফরোয়ার্ডদের কয়েকটি সুযোগও নষ্ট হয় তার দৃঢ়তায়। ফলে বিরতিতে ম্যাচ গোলশূন্যই থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন আক্রমণের গতি আরও বাড়ায়। উইং দিয়ে আক্রমণ সাজানো এবং দ্রুত পাসিংয়ের মাধ্যমে কেপ ভার্দের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করে তারা। তবে প্রতিবারই শেষ মুহূর্তে বাধা হয়ে দাঁড়ান ভোজিনিয়া এবং সংগঠিত ডিফেন্স। পুরো ম্যাচে স্পেনের দখলে ছিল প্রায় ৭৪ শতাংশ বল, আর তারা নেয় ২৩টি শট যার মধ্যে ৮টি লক্ষ্যে থাকলেও কোনোটি জালে জড়াতে পারেনি। বিপরীতে কেপ ভার্দে মাত্র ৬টি শট নিলেও একটি শটও স্পেনের জন্য বিপদের ইঙ্গিত তৈরি করে।
ম্যাচের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল কেপ ভার্দের শুরুর একাদশ। চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সী গড় একাদশ নিয়ে মাঠে নামে তারা, যেখানে গড় বয়স ছিল ৩১ বছরেরও বেশি। অভিজ্ঞতা এবং ধৈর্যের মিশেলে তারা ম্যাচের পুরো সময়জুড়ে স্পেনকে আটকে রাখতে সক্ষম হয়।
৭১ মিনিটে স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল মাঠে নামলে আক্রমণে নতুন গতি আসার আশা করা হলেও কেপ ভার্দের রক্ষণ তখনও অটল থাকে। অন্যদিকে গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার জন্যও এটি ছিল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ, আর ৪০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি যেন অভিজ্ঞতার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়েও স্পেনের মরিয়া চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় গোলশূন্য ড্র, আর তাতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা। তাদের কাছে এই ফলাফল ছিল প্রায় জয়ের সমান, কারণ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়ে তারা তৈরি করেছে এক অবিস্মরণীয় গল্প।
অন্যদিকে স্পেনের জন্য এটি হয়ে থাকল এক সতর্কবার্তা। বলের নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ তৈরির পরও গোল না পাওয়ার দুর্বলতা টুর্নামেন্টের বাকি পথ কঠিন করে তুলতে পারে তাদের জন্য।
