

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনী করল সুইডেন। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি। দাপুটে এই জয়ে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় যোগ করেছে সুইডিশরা।
রোববার মেক্সিকোর মন্টেরিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে সুইডেন। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে এগিয়ে যায় তারা।
যদিও বিরতির আগে এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আভাস দিয়েছিল তিউনিসিয়া। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সুইডেনের ঝড়ো আক্রমণের সামনে আর টিকতে পারেনি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
সুইডেনের হয়ে জোড়া গোল করেন ইয়াসিন আয়ারি। এছাড়া একটি করে গোল করেন আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস এবং মাতিয়াস স্বানবেরি।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই গোলের দেখা পায় সুইডেন। বক্সের বাইরে থেকে ইয়াসিন আয়ারির শক্তিশালী শট জালে জড়ালে শুরুতেই এগিয়ে যায় দলটি। গোল পাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে সুইডেন। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে দারুণ সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা।
৩০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলেকজান্ডার ইসাক। গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় সুইডেন। বল দখল, পাসিং এবং আক্রমণ—সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল তারা।
তবে ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে ব্যবধান কমায় তিউনিসিয়া। হানিবাল মেজব্রির বাড়ানো বল থেকে হেডে গোল করেন ওমর রেকিক। এই গোলে বিরতির আগে কিছুটা আশা ফিরে পায় তিউনিসিয়ানরা।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই আবারও নিজেদের শক্তি দেখায় সুইডেন। ৫৯তম মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেস দলের তৃতীয় গোলটি করেন। গোলটি আসে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগের ভুল থেকে। নিজেদের অর্ধে বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজেই জালে বল পাঠান সুইডিশ ফরোয়ার্ড।
তৃতীয় গোলের পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় সুইডেন। একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তিউনিসিয়ার রক্ষণ। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে অল্প সময়ের মধ্যেই গোল করেন মাতিয়াস স্বানবেরি।
গোলটি নিয়ে কিছুটা নাটকীয়তা তৈরি হয়। সহকারী রেফারি প্রথমে অফসাইডের সংকেত দিলেও পরে ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর গোলের স্বীকৃতি দেওয়া হলে স্বস্তি ফিরে আসে সুইডিশ শিবিরে।
ম্যাচের শেষ দিকে এসে আরও একবার আঘাত হানে সুইডেন। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ইয়াসিন আয়ারি। এরপরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো এক ম্যাচে পাঁচ বা তার বেশি গোল করার কৃতিত্ব দেখাল সুইডেন। এর আগে ১৯৩৮ সালে কিউবার বিপক্ষে ৮-০ গোলের বিশাল জয় পেয়েছিল দলটি, যা এখনো বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় হিসেবে রয়েছে।
