রবিবার
০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদলের ১০ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
expand
সংগৃহীত ছবি

সাতক্ষীরায় একটি কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ ১০ জন নেতা-কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আহত ব্যক্তিদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পী, তার বড় ভাই রাজিব হোসেন, আব্দুর রকিব, বকুল হায়দার, জাহিদ হাসান, ছাত্রদল নেতা আব্দুস সালাম, তহিদুল হোসেন ও মাহামুদুল হাসান রয়েছেন।

আহত ছাত্রদল নেতা মনজুরুল আলম বাপ্পীর অভিযোগ, ঘোনা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা মো. নাজমুল হাসানের একটি কল রেকর্ড শনিবার তাদের হাতে আসে। ওই কল রেকর্ডে ছাত্রদলের এক নেতা ও বিএনপিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি জানতে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন নাজমুলের কাছে গেলে তাকে আটকে রাখা হয়।

বাপ্পী জানান, জাহিদ হোসেনকে আটকে রাখার খবর পেয়ে তিনি কয়েকজন ছাত্রদল নেতা-কর্মীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীরা বাঁশের লাঠি ও লোহার রড ব্যবহার করেন বলেও দাবি তার।

তার দাবি, হামলায় তিনিসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহত ছাত্রদল নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঘোনা ইউনিয়নের একটি বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর ছাত্রদল ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। এতে মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ ১০ জন আহত হন।’

তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, একটি কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেনকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ ১০ থেকে ১৫ জন নেতা-কর্মী সেখানে যান। পরে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মো. নাজমুল হাসান ও তার বাবা লাল্টু মেম্বারের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা হয় বলে তারা জানান।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হান অভিযোগ করেন, স্থানীয় জামায়াতের শেল্টারে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দুদায়েভ মাসুদ অর্ঘ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের কিছু লোক জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতির ওপর হামলা চালিয়েছে।’ তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাহিদ হাসান ডাবলু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কিছু নেতার নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতা মনজুরুল আলম বাপ্পীর ওপর ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালানো হয়েছে।’ তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন