

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বকাপের আসরে ফিরে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে আইভরি কোস্ট। ম্যাচজুড়ে কঠিন লড়াইয়ের পর শেষ মুহূর্তে পাওয়া এক গোলে ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ দিকে নাটকীয় মোড় নেয়।
বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে দলের ত্রাতা বনে যান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার আমাদ দিয়ালো। তার করা একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত হয় আইভরি কোস্টের।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলেছে। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে খেলা জমে উঠলেও গোলের দেখা মিলছিল না। ইকুয়েডর কয়েকবার গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও ভাগ্যের সহায়তা পায়নি।
প্রথমার্ধে জন ইয়েবোয়া ও অ্যালান মিন্দার নেওয়া দুটি প্রচেষ্টা গোলবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এনের ভ্যালেন্সিয়ার একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে হতাশা আরও বাড়ে ইকুয়েডরের শিবিরে।
অন্যদিকে আইভরি কোস্টও সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এলি ওয়াহি একটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। তার শটও কাঠামোতে আঘাত হানে।
ম্যাচের বড় একটি অংশজুড়ে দুই দলের রক্ষণভাগ ছিল বেশ সংগঠিত। ইকুয়েডর আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পায়নি। ৬৮তম মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার একটি শট আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফাফানা দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন।
যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে, তখনই আসে সিদ্ধান্তসূচক মুহূর্ত। ৯০তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে দ্রুতগতির আক্রমণ গড়ে তোলেন উইলফ্রিড সিংগো। তার বাড়ানো বল পেয়ে বাম পায়ের নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন আমাদ দিয়ালো। গোলটি শুধু ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করেনি, আইভরি কোস্টের সমর্থকদেরও উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছে।
এই হারের ফলে ইকুয়েডরের দীর্ঘদিনের অপরাজিত থাকার ধারাও থেমে যায়। গত প্রায় দুই বছরে টানা ১৯ ম্যাচে হার এড়ানো দলটি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পরাজয়ের মুখ দেখল।
গ্রুপ ‘ই’-তে আইভরি কোস্টের সঙ্গে রয়েছে শক্তিশালী কয়েকটি দল। তাই প্রথম ম্যাচে পাওয়া তিন পয়েন্ট তাদের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে। নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে এই জয় বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে ইকুয়েডরের জন্য সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। সুযোগ তৈরি করেও গোল না পাওয়ার হতাশা কাটিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও কার্যকর ফুটবল খেলতে হবে দলটিকে।
