

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য।
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় নির্বাচনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এরপরও বিরোধী দল হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
এর মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালের পর আবারও বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার নতুন নজির তৈরি হতে যাচ্ছে।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতের প্রার্থী কে হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শনিবার রাতে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
দলটি জানিয়েছে, আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা। ওই বৈঠকে শরিকদের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি পদে জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালেই সর্বশেষ বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার নজির দেখা যায়।
ওই সময় আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটে পরাজিত হন।
এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ফলে এবার জামায়াতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২১১টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৬৮টি আসন।
এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই জয়ী হবেন এমন হিসাবই সামনে রয়েছে। তারপরও জয়-পরাজয়ের হিসাবের চেয়ে বিরোধী দল হিসেবে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা আগে বিরোধী দলে ছিলাম না। এখন বিরোধী দলে এসেছি। তাই আমরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ শুরু করলাম। এখানে গণতান্ত্রিক পন্থায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। পাশাপাশি সংস্কারের বিষয়ও আছে। সংস্কার মানে এখানে পদ্ধতিগত সংস্কারও আসবে।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী দেওয়ার নজির আগেও ছিল। আর না থাকলেও সেটি বড় বিষয় নয়। আগে না থাকলেও এখন করা যাবে না এমন কোনো বিষয় নেই। বিরোধী দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে নির্বাচনের সচ্ছতাও বজায় থাকে।
যদিও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত অংশ নেবে এবং প্রার্থী জোটগতভাবে চূড়ান্ত হবে। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। যেটা ফাইনাল হবে ১১ দলীয় জোটের প্রোগ্রামে। আজ জোটের বৈঠক হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই নির্ধারিত এমন বাস্তবতার মধ্যে জামায়াত কেন অংশ নিচ্ছে, জানতে চাইলে মিলন জানান, ফলাফলকে তারা বিবেচনার মূল বিষয় হিসেবে দেখছেন না। ফলাফল যেটাই হোক, তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা খুব ভালো একজন প্রার্থী দেব এবং তিনি যোগ্য প্রার্থী হবেন, যাকে দেশ গ্রহণ করবে।
মিলন আরও বলেন, নির্বাচনে আমরা অংশ নেব। আমরা তো সরকারি দলের হুকুমে চলব না। সরকারি দল তাদের কাজ করবে, আমরা আমাদের কাজ করছি।