

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফুটবল ইতিহাসে ‘নাম্বার নাইন’ পজিশনকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার কথা উঠলে সবার আগে যে নামটি আসে, সেটি রোনালদো নাজারিও। গতি, ড্রিবলিং, শক্তি আর নিখুঁত ফিনিশিং—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এমন এক স্ট্রাইকার, যিনি একাই বদলে দিতে পারতেন ম্যাচের ফল।
ব্রাজিলের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই প্রতিভার শুরুটা ছিল কঠিন। কিন্তু ফুটবলই ছিল তার মুক্তির পথ। স্থানীয় ক্লাব থেকে ক্রুইজেইরো, তারপর ইউরোপ—পিএসভি, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে ভয়ংকর ফরোয়ার্ডদের একজন।
বার্সেলোনায় তার এক মৌসুমই তাকে কিংবদন্তির কাতারে নিয়ে যায়। ইন্টার মিলানে পা রাখার পর পান ‘এল ফেনোমেনন’ খেতাব। আর রিয়াল মাদ্রিদে গ্যালাকটিকো যুগে থেকেও নিজের আলাদা উজ্জ্বলতা ধরে রাখেন তিনি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে তার গল্প আরও নাটকীয়। ১৯৯৮ সালের ফাইনালের হতাশা পেছনে ফেলে ২০০২ বিশ্বকাপে ৮ গোল করে ব্রাজিলকে এনে দেন পঞ্চম শিরোপা। বড় ম্যাচে নিজের সেরাটা দেওয়ার ক্ষমতাই তাকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে। চারটি বিশ্বকাপে ১৫ গোল করে একসময় ছিলেন টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
দুইবার ব্যালন ডি’অর, তিনবার ফিফা বর্ষসেরা। তার অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। কিন্তু রোনালদোর আসল পরিচয় পরিসংখ্যানে নয়, তার খেলায়। বল পায়ে নিলেই যেন সময় থমকে যেত, আর রক্ষণভাগ হারিয়ে ফেলত দিশা।
রোনালদো নাজারিও শুধু গোলদাতা নন তিনি ছিলেন এক অভিজ্ঞতা, এক বিস্ময়। তাই ফুটবল বিশ্ব তাকে মনে রাখে এক নামেই ‘ফেনোমেনন’।
