

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগেই নতুন এক দৃশ্যের সাক্ষী হলো ভারতীয় ক্রিকেট। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীতের আগে পুরো ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতীয় দলের কোনো ম্যাচের আগে এমন আয়োজন এবারই প্রথম দেখা গেল।
ম্যাচ শুরুর আগে প্রথমে বাজানো হয় ‘বন্দে মাতরম’। এরপর ভারত ও আফগানিস্তানের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই এই আয়োজনে কিছুটা বিস্মিত হন। কারণ, ভারতীয় ক্রিকেট দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরুর আগে এত দিন মূলত দুই দেশের জাতীয় সংগীতই পরিবেশন করা হতো। জাতীয় সংগীতের আগে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের এমন নজির আগে দেখা যায়নি।
এ বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কিংবা গত জুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সর্বশেষ সিরিজেও ম্যাচ শুরুর আগে এভাবে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হয়নি।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। নির্দেশনায় সরকারি আয়োজনে গানটির প্রথম ছয়টি স্তবক পরিবেশনের কথা বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ শেষ হওয়ার পর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পুরো গানটি পরিবেশন করতে প্রায় ১৯০ সেকেন্ড সময় লাগে।
সেই নির্দেশনার প্রভাবই এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মাঠেও দেখা গেল। দিল্লির ম্যাচে জাতীয় সংগীতের আগে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করে নতুন এই রীতির সূচনা করা হয়েছে।
‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ১৮৮২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন অধিনায়ক জয় হে’-এর রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
ক্রিকেটের মতো জনপ্রিয় একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে জাতীয় সংগীতের আগে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের ঘটনা তাই শুধু ম্যাচ শুরুর আনুষ্ঠানিকতায় পরিবর্তন নয়, ভারতের সাম্প্রতিক সরকারি নির্দেশনার একটি দৃশ্যমান প্রয়োগ হিসেবেও সামনে এসেছে।

