

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাবেক সতীর্থ ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবি জানাতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারলেন না জাভেদ মিয়াঁদাদ। চোখের পানি মুছতে মুছতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি আলোচনার মাধ্যমে ইমরানকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার।
দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে থাকা ইমরানকে ‘সৎ মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে মিয়াঁদাদ বলেন, ইমরান পাকিস্তানের কোনো সম্পদ চুরি করেননি এবং দেশকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও সেবা করেছেন।
ইমরানের শারীরিক অবস্থা ও কারাগারে তার চিকিৎসা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যেই মিয়াঁদাদের এই বক্তব্য সামনে এল। সম্প্রতি ইসলামাবাদে ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপর তাকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইমরানের দল। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল।
এর আগে ইমরানের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি লিখেছিলেন ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। সেই প্রেক্ষাপটেই মিয়াঁদাদের আবেগঘন বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ন্যারেটিভ-ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিয়াঁদাদ ইমরানকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘কেউ আমাকে এটা বুঝিয়ে বলুক, সে কি পাকিস্তানকে খেয়ে ফেলবে?’ এরপরই তিনি বলেন, ‘সবাইকে বিষয়টি দেখতে ও বুঝতে হবে। আমরা সবাই পাকিস্তানি।’
ইমরানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ ক্রিকেটীয় সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন ৬৯ বছর বয়সী মিয়াঁদাদ। ইংল্যান্ডে একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলা এবং পরে ইমরানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিও উঠে আসে তার কথায়।
১৯৯২ সালে ইমরানের নেতৃত্বেই মেলবোর্নে ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান। সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মিয়াঁদাদ।
ইমরানকে নিয়ে চলমান পরিস্থিতির অবসান চেয়ে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘মানুষের একসঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধান করা উচিত। যে সমস্যাই থাকুক, পাকিস্তানের এখন সেটাই প্রয়োজন। পরিস্থিতিটা অযথা দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে, এটা ঠিক নয়।’
এ কথা বলতে গিয়েই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। ইমরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘সেও কারও সন্তান। প্রায়ই আমার মনে হয়—বেচারা কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে? আমরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি, সময় কাটিয়েছি, একে অন্যকে খুব ভালোভাবে বুঝতাম। একসঙ্গে আমরা পাকিস্তানকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিলাম।’
ইমরানের কিছু হলে তার প্রভাব পুরো পাকিস্তানে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ না করুন, তার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে দেশে কী ঘটবে, তা কি আপনারা কল্পনা করতে পারেন? পুরো পাকিস্তান কাঁদবে।’
ইমরানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, ‘ইমরান একজন সৎ মানুষ। যা হওয়ার হয়েছে। মানুষ ভুল করে। এবার বিষয়টির ইতি টানুন। তিনিও একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করেছেন। তার বিরুদ্ধে চুরির কোনো অভিযোগ নেই।’
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের প্রতি আবারও সমাধানের আহ্বান জানিয়ে মিয়াঁদাদ বলেন, ইমরান তার সময় ও সামর্থ্য পাকিস্তানের জন্য ব্যয় করেছেন। তাই পরিস্থিতি আর দীর্ঘায়িত না করে আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করা উচিত।


