

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচটি ছিল অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল। এ ম্যাচে সমীকরণ ছিল এমন যে, যেই দল জিতবে সেই দলই কাটবে সেমির টিকিট। এমন ম্যাচে ভারতকে ১৯৬ রানের বড় টার্গেট দিয়েও জিততে পারলো না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সঞ্জু স্যামসনের হার না মানা ৯৭ রানের এক ইনিংসে ভর করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত।
রোববার (১ মার্চ) কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আগে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় ভারত।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোড়ান দুই ওপেনার শাই হোপ এবং রোস্টন চেজ। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দলীয় ৬৮ রানে প্রথম ধাক্কা খায় ক্যারিবিয়রা। ৩৩ বলে ৩২ রান করে বরুণ চক্রবর্তীর বলে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক শাই হোপ।
তিনে নেমে শিমরন হেটমায়ার ঝড় তোলেন। ১২ বলে ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলের ১০২ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন তিনি। একই ওভারে সাজঘরে ফিরেছেন চেইজও। ২৫ বলে ৪০ রান করেন রোস্টন চেইজ। দুজনকেই ফিরিয়েছেন জাসপ্রীত বুমরাহ।
এই দুই ব্যাটারের বিদায়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের গতি কিছুটা কমে। শেরফান রাদারফোর্ড ৯ বলে ১৪ রান করে থেমেছেন ১১৯ রানের মাথাতে।
এরপর ঝড় তোলেন রভম্যান পাওয়েল এবং জেসন হোল্ডার। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ভারতের বোলারদের তুলোধুনো করে রান তুলেছেন দুজন।
নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯ বলে ৩৪ রান করে টিকে ছিলেন পাওয়েল। ২২ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন হোল্ডার।
ভারতের হয়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন জাসপ্রীত বুমরাহ। ১টি করে উইকেট নেন হার্দিক পান্ডিয়া এবং বরুণ চক্রবর্তী।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরুর আভাস দেন ভারতের ওপেনিং জুটি। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফিফটি তুলে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দেওয়া অভিষেক ফেরেন দলীয় ২৯ রানে। ১১ বলে ১০ রান করে বিদায় নেন তিনি।
তিনে নামা ঈশান কিষাণের এদিন ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৬ বলে ১০ রান করে বিদায় নিয়েছেন তিনি। টিকে থাকা ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন পাওয়ারপ্লে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান তোলে ভারত।
এক প্রান্ত আগলে রেখে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করতে থাকেন সাঞ্জু স্যামসন। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে স্যামসনকে সঙ্গ দিতে থাকেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তবে দলীয় ৯৯ রানে শামার জোসেফের বলে রাদারফোর্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ১৬ বলে ১৮ রান করা সূর্যকুমার। আর তাতেই ভাঙে তাদের ৩৫ বলে ৫৮ রানের জুটি। এরপর স্যামসনের সঙ্গে ৪২ রানের জুটি গড়েন তিলক ভার্মা। ১৪১ রানের মাথায় ১৫ বলে ২৭ রান করা তিলককে থামান হোল্ডার। হার্দিক পান্ডিয়াও এদিন নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৪ বলে ১৭ রান করে শিকার হয়েছেন শামার জোসেফের। এরপর আর কোনো অঘটন ঘটতে দেননি স্যামসন ও শিভম দুবে। দুজনে মিলে সারেন জয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ৪ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। সঞ্জু স্যামসন অপরাজিত থাকেন ৫০ বলে ৯৭ রানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন জেসন হোল্ডার এবং শামার জোসেফ। ১ উইকেট নেন আকিল হোসেইন।
মন্তব্য করুন
