

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বে থাকা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অর্থ পাচার (মানিলন্ডারিং) প্রতিরোধ বিভাগের কার্যক্রমে দৃশ্যমান গতি দেখা যাচ্ছে না। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভাগটিতে ৫২৯টি মানিলন্ডারিং-সংক্রান্ত অনুসন্ধান চলমান থাকলেও এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৭৫টি। অর্থাৎ, নিষ্পত্তির হার প্রায় ১৪ শতাংশ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠে। দুবাইয়ে ৪৫৯ জন বাংলাদেশির গোল্ডেন ভিসার মাধ্যমে সম্পদ কেনা, বসুন্ধরা গ্রুপ, এস আলম গ্রুপসহ আলোচিত একাধিক অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধানের দায়িত্বও এই বিভাগের ওপর রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এসব আলোচিত অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
দুদকের একাধিক সূত্রের দাবি, অনুসন্ধান কার্যক্রমে ধীরগতির বিষয়টি নিয়ে কমিশনের অভ্যন্তরেও আলোচনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে অর্থ পাচার প্রতিরোধ বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) মোকাম্মেল হকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। তিনি ২০২৩ সালের ২১ মার্চ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রেষণে দুদকের মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি একই দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
২০২৩ সালে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মোকাম্মেল হকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) গৌতম ভট্টাচার্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি সে সময় দুদকের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহাপরিচালক মোকাম্মেল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে অর্থ পাচার প্রতিরোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। ফলে এই বিভাগটির সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকার কথা ছিল। কিন্তু তাদের আন্তরিকতা ও তদারকির ঘাটতি স্পষ্ট।’
তিনি বলেন, ‘মানিলন্ডারিংয়ের মতো বিশেষায়িত অপরাধ তদন্তে দক্ষতা ও সমন্বয় প্রয়োজন। দীর্ঘ সময়েও যদি নিষ্পত্তির হার ১৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সেটি অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত।’
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সদস্য মাজেদুল হক বলেন, ‘অর্থ পাচার প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালনকারীদের দলীয় বা ব্যক্তিগত বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হবে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
দুদকের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, আলোচিত অর্থ পাচারের অনুসন্ধানগুলো দ্রুত শেষ না হলে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাদের মতে, বিভাগটিতে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সৎ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া এবং চলমান অনুসন্ধানগুলোর কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।