সোমবার
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুখ খুললে অনেকের প্যান্ট খুলে যাবে: ফয়েজ তৈয়্যব

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৫ এএম
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
expand
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

টেলিকম খাতে দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ রাখেননি বলে দাবি করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেন, লাইসেন্স না দেওয়ায় রাজনৈতিক দলের অনেক মানুষ তাঁর ওপর নাখোশ হয়েছেন।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই দাবি করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, ‘টেলিকমের দুর্নীতির প্রধানতম উৎস লাইসেন্স দেওয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো লাইসেন্স দিইনি। ফলে দুর্নীতি করার কোনো স্কোপই আমি রাখিনি।’

তিনি বলেন, ‘মুখ খুললে বহু ভদ্রলোকের শুধু প্যান্ট খুলে যাবে না, বরং আন্ডারঅয়্যারও খসে পড়ার চান্স আছে। তাই আমার সাথে হিসাব করে পাঙ্গা লড়তে আইসেন। বরং আমার কাজ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করুন, দেশের দু-পয়সা উপকার হবে।’

জার্মানি গেলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবজার্মানি গেলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) ও টেলিকমে তাঁর সময়ে করা বিভিন্ন আইন ও নীতির তালিকা তুলে ধরেন। আইসিটি খাতের ছয়টি অধ্যাদেশ ও নীতিমালার মধ্যে রয়েছে—সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত), ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধাদেশ, ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত), ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধনী) অধাদেশ, ২০২৬ (গেজেট প্রকাশিত), জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত), ন্যাশনাল সোর্স কোড পলিসি, ২০২৬ (আন্তমন্ত্রণালয় সভায় গৃহীত), ন্যাশনাল এআই পলিসি, ২০২৬ (খসড়া প্রকাশিত) এবং ন্যাশনাল ক্লাউড পলিসি, ২০২৬ (খসড়া প্রকাশিত)।

ফয়েজ আহমেদের সময়ে করা টেলিকম খাতের অধ্যাদেশ, নীতিমালা ও সংস্কারের মধ্যে রয়েছে—টেলিকম লাইসেন্স ও নেটওয়ার্কিং পলিসি (গেজেট প্রকাশিত), টেলিযোগাযোগ (সংশোধনী) অধ্যাদেশ (গেজেট প্রকাশিত), ন্যাশনাল সার্ভেইল্যান্স প্রসেস প্রস্তাবনা (নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন), টেলিকম নেটওয়ার্ক লাইসেন্সসমূহের নতুন গাইডলাইন (গৃহীত) এবং রোলআউট অবলিগেশন এবং কেপিআই বেঞ্চমার্কিং (গৃহীত)।

ডাক বিভাগে ফয়েজ আহমদের সময়ে করা সংস্কার কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—ডাকসেবা অধ্যাদেশ, ২০২৬, নতুন ঠিকানা ব্যবস্থাপনা ও ম্যাপিং, ভাসমান ও ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপ্টেশন, ডিজিটাল পার্সেল ও পোস্ট্যাল ট্র্যাকিং এবং ই-কমার্স রূপান্তরের জন্য সেন্ট্রাল লজিস্টিকস ট্র্যাকিং।

আওয়ামী লীগের সকল টেলিকম আইন ও পলিসি এবং গাইডলাইন পরিবর্তন করেছেন বলে ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। তিনি লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সকল টেলিকম আইন, পলিসি ও গাইডলাইন আমি পরিবর্তন করে দিয়েছি। নতুন পারফরম্যান্স বেঞ্চমার্কিং সূচনা করে গেছি।’

ব্যক্তিকে তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন ফয়েজ আহমদ। না হলে ভবিষ্যতে কেউ দেশে কাজ করতে আসবে না বলে সতর্ক করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ১১ মাসে কী করেছি, কেন করেছি, তা নিয়ে ‘নোট টু সাকসেসর’ লিখে দিয়েছি। এটাও বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। আশা করি, পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সৌভাগ্যবান হবেন, সব ফাউন্ডেশনাল কাজ আমি করে দিয়ে গেছি। কিছু চেঞ্জ করতে চাইলেও বেজলাইনের ওপর পরিবর্তন করা সহজ হবে, তবে হঠকারী কিছু করলে রেকর্ডেড হবেন, যেহেতু আমাদের সব পাবলিকেশন আছে, তাই ইতিহাসের কাছে উনাকেও দায়বদ্ধ থাকতে হবে। টুকটাক পরিবর্তন রাজনৈতিক প্রশাসন অবশ্যই করবেন, কিন্তু পুরা ইকোসিস্টেম পরিবর্তন করা টাফ হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X