

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামে আজানের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। নামাজের সময় জানানোর পাশাপাশি আজান মুসলমানদের আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করে। আজান শোনার পর এর জবাব দেওয়া সুন্নত।
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তা বলবে।’ —সহিহ বুখারি, হাদিস ৬১১; সহিহ মুসলিম।
মুয়াজ্জিন আজানের প্রতিটি বাক্য বলার পর শ্রোতা তা অনুরূপভাবে বলবেন। তবে ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময় জবাবে বলতে হবে-
লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
মুয়াজ্জিন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার জবাব: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার
মুয়াজ্জিন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার জবাব: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার
মুয়াজ্জিন: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ জবাব: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
মুয়াজ্জিন: আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ জবাব: আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ
মুয়াজ্জিন: হাইয়্যা আলাস সালাহ জবাব: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
মুয়াজ্জিন: হাইয়্যা আলাল ফালাহ জবাব: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
মুয়াজ্জিন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার জবাব: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার
মুয়াজ্জিন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ জবাব: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
আজান শেষ হলে মহানবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা সুন্নত। এরপর আজানের পরের দোয়া পড়া উত্তম।
দোয়ার শুরু:
আল্লাহুম্মা রব্বা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াস সালাতিল কায়িমাতি, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাতা, ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাজি ওয়াদতাহু।
এরপর আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা যায়।
আজান চলাকালে মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং জবাব দেওয়া উত্তম। অপ্রয়োজনীয় কথা বা কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।
কেউ কোরআন তেলাওয়াত করলে আজানের জবাব দেওয়ার জন্য সাময়িকভাবে তেলাওয়াত থামিয়ে দেওয়া উত্তম বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় কথা বা জরুরি কাজের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
আজান শুনলে সাধারণভাবে মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য মুয়াজ্জিনের জবাব দেওয়া সুন্নত। তবে নামাজরত ব্যক্তির মতো কিছু অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়ার বিধান ভিন্ন হতে পারে। এ বিষয়ে মাজহাবভেদে কিছু ফিকহি মতপার্থক্য রয়েছে।
আজানের জবাব দেওয়া সহজ একটি সুন্নত আমল। আজান শুনে মনোযোগসহকারে মুয়াজ্জিনের বাক্যের জবাব দেওয়া এবং এরপর দরুদ ও দোয়া পড়া একজন মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল।


