

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামি শরিয়তের মূল নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী নারীদের গাড়ি চালানো বা ড্রাইভ করা সম্পূর্ণ জায়েজ ও বৈধ। শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শালীনতা ও প্রয়োজনীয় বিধিমালা মেনে চললে নারীর গাড়ি চালাতে কোনো প্রকার বাধা নেই।
ঐতিহাসিক প্রমাণের আলোকে বিধান
ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে নারীদের বাহন চালনার স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নজির রয়েছে। রাসুলুল্লাহর (সা.) সহধর্মিণী এবং নারী সাহাবিগণ নির্দ্বিধায় উট ও ঘোড়া চালিয়ে যাতায়াত এবং সফর করেছেন। এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "উষ্ট্রারোহী নারীদের মধ্যে কুরাইশের নেক নারীগণই সর্বোত্তম।
তারা শৈশবে সন্তানের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল এবং স্বামীর সম্পদের উত্তম হেফাজতকারী।" তৎকালীন যুগে উট বা ঘোড়া চালনায় যেহেতু কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না, তাই সময়ের বিবর্তনে আধুনিক যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে গাড়ি চালানোও শরিয়তের এই মূলনীতির আওতাভুক্ত।
সমসাময়িক কিছু আলেম পরিস্থিতিভিত্তিক যে সতর্কতা আরোপ করেন, তা মূলত পারিপার্শ্বিক নিরাপত্তার নিরিখে- যা সর্বজনীন কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়।
গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলি
গাড়ি চালাতে গিয়ে যেন ইসলামি শরিয়তের কোনো বিধান লঙ্ঘিত না হয়, সে জন্য নারী চালকদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি:
পর্দা ও শালীনতা রক্ষা: ড্রাইভ করার সময় হিজাব ও শরিয়তসম্মত শালীন পোশাক পরিধানের বিধান সঠিকভাবে বজায় রাখতে হবে।
নির্জনতা বর্জন: গাড়ির ভেতর যেন কোনো গাইরে মাহরামের (যাদের সঙ্গে বিবাহ বৈধ) সঙ্গে একান্তে নির্জন অবস্থান তৈরি না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা আবশ্যক।
দূরপাল্লার সফরে মাহরামের উপস্থিতি: শহর বা লোকালয়ের ভেতরে দৈনন্দিন সাধারণ কাজের প্রয়োজনে একা গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ বৈধ। তবে সফরটি যদি শরিয়ত নির্ধারিত দূরত্বের (প্রায় ৭৭ কিলোমিটার বা ৪৮ মাইল) সমান বা বেশি হয়,
তবে অবশ্যই কোনো মাহরাম অভিভাবককে (যেমন: বাবা, ভাই, স্বামী, ছেলে) সাথে রাখতে হবে। মাহরাম ছাড়া একা ড্রাইভ করে দূরপাল্লার সফর করা ইসলামে অনুমোদিত নয়।


