

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আরবি ‘কুরব’ শব্দ থেকে ‘কুরবানি’ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে, যার মূল অর্থ হচ্ছে কোনো কিছুর নৈকট্য বা কাছাকাছি যাওয়া। আর ইসলামিক পরিভাষায়, মহান আল্লাহ তাআলার বিশেষ সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহ লাভের উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কিছু পশু জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়। এই ইবাদতটির সুনির্দিষ্ট সময় হলো ঈদুল আজহার দিন (১০ জিলহজ) থেকে শুরু করে আইয়ামে তাশরিকের শেষ দিন (১২ জিলহজ) সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির নিয়ম করে দিয়েছি, যাতে আল্লাহ তাদেরকে যে চতুষ্পদ জন্তুসমূহ দিয়েছেন, তাতে তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৪)
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত- ১. ইসলাম গ্রহণ করা: কোরবানি বা যেকোনো ধরনের ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে।
২. নেসাবের মালিক হওয়া: জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে (১০, ১১ ও ১২ জিলহজ) জীবনযাত্রার মৌলিক প্রয়োজনীয় খরচ বাদে যার কাছে নেসাব পরিমাণ (স্বর্ণ, রুপা বা সমমূল্যের) অতিরিক্ত সম্পদ থাকবে, তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।
৩. প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া: কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে প্রাপ্তবয়স্ক এবং মানসিক সুস্থতাসম্পন্ন হতে হবে। কোনো নাবালেগ শিশু-কিশোর বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি যদি নেসাবের মালিকও হয়, তবুও তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।
৪. মুকিম হওয়া (মুসাফির না হওয়া): হানাফি মাজহাবের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সফরে থাকলে (মুসাফির হলে) তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয় না; কেবল মুকিম বা স্থায়ী বাসিন্দার ওপরই এটি ওয়াজিব।
৫. স্বাধীন ব্যক্তি হওয়া: কোরবানি কেবল স্বাধীন ব্যক্তির ওপরই আবশ্যক। কোনো পরাধীন ব্যক্তি বা ক্রীতদাসের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।
কোরবানি নিয়ে রাসুল (সা.) এর বানী-
. সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কোরবানি করে না, তাদের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোরবানি করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৩৫১৯)
. তিনি বলেছেন, ‘কোরবানির দিনের আমলসমূহের মধ্য থেকে পশু কোরবানির চেয়ে অন্য কোনো আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় নয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৯৯)
. রাসুল (সা.)-কে কোরবানি সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের সুন্নত’ এবং কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকি রয়েছে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৭)
