

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঘটনা বাড়লে প্রায়ই একটি প্রশ্ন সামনে আসে—বজ্রপাতে মারা গেলে ইসলামের দৃষ্টিতে কি তাকে শহীদ বলা যায়?
ইসলামী শরিয়তের আলোকে বিষয়টি কিছুটা ব্যাখ্যার দাবি রাখে।
ইসলামে “শহীদ” শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তিকেই বোঝায় না। সহিহ হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি ছাড়াও কিছু বিশেষ অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীরা শহীদের মর্যাদা লাভ করতে পারেন। যেমন—মহামারিতে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, পেটের রোগে মৃত্যু, আগুনে পুড়ে মৃত্যু, ভবনচাপা পড়ে মৃত্যু ইত্যাদি।
ইসলামী স্কলারদের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বজ্রপাতে মৃত্যু সাধারণত আকস্মিক ও কঠিন বিপদজনক মৃত্যুর অন্তর্ভুক্ত। যদি ব্যক্তি ঈমানদার অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত না থাকে, তাহলে আল্লাহর রহমতে সে “আখিরাতের শহীদ” (শহীদুল আখিরাহ) হওয়ার আশা করা যায়।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে:
১. দুনিয়াবি শহীদ (শহীদুদ দুনিয়া):
যিনি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে নিহত হন। তাঁর জন্য দাফনের বিশেষ বিধান রয়েছে।
২. আখিরাতের শহীদ (শহীদুল আখিরাহ):
যারা দুর্ঘটনা, রোগ বা দুর্যোগে মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু পরকালে শহীদের সওয়াব পেতে পারেন।
বিশিষ্ট আলেমদের মতে, বজ্রপাতে মৃত্যু সরাসরি হাদিসে উল্লেখ নেই। তাই নিশ্চিতভাবে কাউকে শহীদ ঘোষণা করা ঠিক নয়। বরং বলা যায়—“আল্লাহ চাইলে তিনি শহীদের সওয়াব পেতে পারেন।”
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের ভাষায়, কারও চূড়ান্ত মর্যাদা নির্ধারণের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর।
বজ্রপাতে মারা গেলে তাকে নিশ্চিতভাবে শহীদ বলা শরিয়তসম্মত নয়। তবে এটি কঠিন ও আকস্মিক মৃত্যু হওয়ায় আল্লাহর রহমতের আশা করা যায় এবং অনেক আলেম এটিকে শহীদের মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে রাখেন।
মন্তব্য করুন
