

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গানের ভিডিও নিয়ে মুখ খুলেছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। ভিডিওটিতে তাকে একটি গান গাইতে দেখা যায়। পরে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফেসবুকে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
মাদানী দাবি করেন, ভিডিওটি প্রায় আড়াই বছর আগের। সে সময় স্ত্রীকে উদ্দেশ করে গান গাওয়ার মুহূর্তে পরিচিত একজন ব্যক্তি গোপনে ভিডিওটি ধারণ করেন। পরে সেটি প্রকাশ না করার আশ্বাস দেওয়া হলেও সম্প্রতি তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও উপহাসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাদানী। এ সময় তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদেরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
রোববার (২৪ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রফিকুল ইসলাম মাদানীর একটি রোমান্টিক গানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, আমি প্রথম বিয়ে করার পর আজ থেকে আড়াই বছর আগে সিলেটের একটি রিসোর্টে বসে আমার স্ত্রীকে একটা সংগীত শোনাচ্ছিলাম। তখন সিলেটের এক বে*ই*মান, সাকালাইন শাফি পিছন থেকে ভিডিও করে ফেলে। আমি যখন বিষয়টি দেখে ফেলি, তখন সে বলে, ‘ভাই, এই ভিডিও আমি কখনোই ছাড়ব না।’
তিনি আরও লিখেন, ‘আরেকটা ভিডিও তার কাছে ছিল যেটা এক জায়গায় নৌকা দিয়ে ঘুরতে গিয়ে মজা করছিলাম, সেটাও সে ভিডিও করে ফেলে এবং আমি যখন বলি ভাই ভিডিও ডিলিট করুন, তখন সে কসম খায়, বলে ভাই আমি কখনও ভিডিও কোথাও প্রচার করব না! কিন্তু একটা কথাও সে রাখেনি, সেই বে*ইমা*নীর প্রতি কষ্ট পেয়ে বিগত দুই বছর ধরে সিলেটের কোনো জেলায় প্রোগ্রামে যাই না। অনেক বন্ধু মুহিব্বিন ফোন করে দাওয়াত দেয়, সবাইকে না করে দিই; কিন্তু কাউকে বিষয়টা কখনও খুলে বলিনি!’
রফিকুল ইসলাম মাদানী আরও লিখেন, ‘এখন সেই বিষয়টি নিয়েই আওয়ামী লীগের লোকেরা নতুন করে মজা নিচ্ছে। সাথে কিছু স্বজাতীয় গা*দ্দার হিং*সুক গুলোও নিচ্ছে, নিতে থাক। পাগলের সুখ মনে মনে-কাগজ উড়ায়, টাকা গোনে। তারা মনে করে আমাকে ট্রল করলে কিংবা মানুষের সামনে ছোট করলে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ব, খুব আবেগপ্রবণ হয়ে যাব, তারপর হয়তো আওয়ামী লীগ নিয়ে কিংবা যে কোন দলের দালালি নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেব। অথচ হাসিনা আমাকে দীর্ঘদিন বন্দি রেখেছিল, রিমান্ডে নির্যা*তন করেছিল, কাপড় খুলে মেয়ে দিয়ে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করারও চেষ্টা করেছিল, যাতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি!’
পোস্টের সবশেষে লিখেন, ‘কিন্তু এরা ব্যর্থ। আমি থেমে যাইনি, ভয় পাইনি, ভেঙে পড়িনি। অতএব আওয়ামী লীগ ও তার সাঙ্গপাঙ্গলীগকে একটা পরামর্শ দিচ্ছি- আমাকে নিয়ে পড়ে না থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও কীভাবে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা করেন! আমি আমার আদর্শ ও বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সত্যের পক্ষে কথা বলাই আমার লক্ষ্য। আমাকে থামানোর চিন্তা বাদ দিন। আমি এই উম্মাহকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি। আমি অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে বিশ্বাস করি। আমার মানসিক দৃঢ়তা কতটুকু, সেটা আমার বিরোধীরাও জানে। আ*ও*য়ামী লীগ, ছা*ত্র*লীগ, যু*ব*লীগ-সবাই ভালো হয়ে যান!’
