মঙ্গলবার
২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিএনপির সরকারের ১০০ দিন

নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর বহুমুখী চমক

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ১০:৫১ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
expand
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনেই নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চমক দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, সম্মিলিত শক্তিতে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভোট প্রদানের কালি মোচনেরও অনেক আগে, সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই, প্রতিটি অগ্রাধিকার ভিত্তিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, কৃষি ঋণ মওকুফ ও প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহার জনগণের মধ্যে স্বস্তি এনেছে।

তিনি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে বিষয়ভিত্তিক ও খাতনির্ভর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দেন, যার ফলে পুরো রাষ্ট্রকাঠামো একযোগে লক্ষ্য স্থির করে, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অনিঃশেষ কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের অভূতপূর্ব এই কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষের জীবনমানে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

এছাড়া ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাডার ও সীমান্ত ড্রোন প্রযুক্তি, অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি, স্টার্ট-আপ ফান্ড ও এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ, ট্রাফিকে এআই, ইলেক্ট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ এবং চিরাচরিত ভিভিআইপি সংস্কৃতি ভেঙে দিয়ে নন্দিত হচ্ছেন তারেক রহমান।

সোমবার (২৫ মে) নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে ১০০ দিনের অর্জন, দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দেশের এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে, জনগণের অবিস্মরণীয় ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

দীর্ঘ দুঃশাসনের পর, রক্তস্নাত জুলাই গণভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের ত্যাগ-সংগ্রামের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা পেরিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও জনবান্ধব নেতৃত্বে, দেশ আজ গভীর সংকট কাটিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে। প্রথম ১০০ দিনেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার লুণ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানা জনগণের কাছে আবার ফিরিয়ে দিয়েছে; মজবুত করে চলেছে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।

কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনস্বস্তির বড় উদ্যোগ : সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জানান, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ ইতোমধ্যেই দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে যথাক্রমে কৃষি ও নারীকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিম্নআয়ের ৫৫ লাখ পরিবারকে প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি করে চাল সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক ‘খাল খনন কর্মসূচি’র পুনরুজ্জীবন : তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে দেশজুড়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ‘খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

এটি শুধু প্রাণ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, মৎস্য, কৃষি ও পাণিসম্পদ সংরক্ষণেই ভূমিকা রাখবে না, বরং জলাধার সৃষ্টি ও পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ ও কৃষি সুরক্ষায় ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বাক-স্বাধীনতার সুযোগে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল এবং গণমাধ্যমকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল।

এর বিপরীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিটি বিএনপি সরকার দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীন বিকাশ নিশ্চিত করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই নজিরবিহীন স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, অশোভন আচরণ ও অশালীন কর্মকাণ্ডে মাধ্যমে সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরির যে প্রয়াস চলছে, তা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর। সরকার একদিকে মানবাধিকার, বাক-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার প্রতিফলন গত ১০০ দিনের উদার ও সহিষ্ণুতার নতুন মানদণ্ডে বারবার প্রতীয়মান হয়েছে।

অন্যদিকে বাক-স্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষেদগারের যে রাজনীতি একটি গোষ্ঠীর অপকৌশলে পরিণত হয়েছে, সেই চর্চা গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক।

মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন : মাহদী আমিন বলেন, গুম-খুন, হামলা-মামলা এবং দমন-পীড়নের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রীসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত, অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ, ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সরকার গঠনের পর এত স্বল্প সময়ে মন্ত্রীসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর করতে সক্ষম হওয়া সরকারের দ্রুততা, কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ ঈদ উদযাপনের পরিবেশ : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, শ্রমবান্ধব রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সবসময় শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও দেশব্যাপী শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন, ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, কারখানার মালিক-শ্রমিক এবং মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও সমন্বয় করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা এবং নগদ অর্থছাড়ের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষ বা আন্দোলনের কারণে অতীতে যে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার পরিস্থিতি তৈরি হতো, চলমান উদ্যোগের ফলে তা সফলভাবে এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ফলে শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন।

ঈদযাত্রা ও জনকল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ : তিনি জানান, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের জন্য বিশেষ ট্রেন ও নৌ-সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ট্রেনে নারীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা কম্পার্টমেন্ট।

কোরবানির পশুর বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ, চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং গবাদিপশু চোরাচালান রোধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এবার সাধারণ হজযাত্রীদের বিমানভাড়া ব্যাপকভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও বেতন পরিশোধে মালিক-শ্রমিক পক্ষগুলোর সাথে সমন্বয় করে নগদ অর্থছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু: মাহদী আমিন বলেন, দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং বিমানবন্দর ও ট্রেনে হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তরুণদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে নতুন করে স্পোর্টস ও নতুন কুঁড়ি কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে সরকার দ্রুত ও মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে। হামের টিকা এনে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, শিশু রামিসার সঙ্গে এক ভয়াবহ ও নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ তার বাসায় গিয়ে পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের মাধ্যমে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, ইতোমধ্যেই চার্জশিট দাখিল হয়েছে।

একই সঙ্গে নিপীড়িত পরিবারের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, যা মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আরও একটি উল্লেযোগ্য উদাহরণ হলো: মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক আসামিকে আদালতের মৃত্যুদ- প্রদান। মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণা দেশের বিচারব্যবস্থায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বিরল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এক দশক পর তনু হত্যা মামলার প্রথম আসামিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের পথ আরও সুগম হয়েছে। একইভাবে শরিফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিকে ভারতে দ্রুত শনাক্ত করা হয়েছে এবং দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, একসময় অন্যায়ের শিকার মানুষ, নির্যাতিত পরিবার কিংবা অসহায় ভুক্তভোগীরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস গণভবনের সামনে অপেক্ষা করতেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একবার দেখা করার জন্য, নিজেদের অসহনীয় কষ্টের কথা জানাতে এবং বিচারের আশায়। ক্ষমতার দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করাই ছিল তখন তাদের শেষ ভরসা। এখন ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান না; বরং প্রধানমন্ত্রীই জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন।

তিনি মানুষের কথা শুনছেন, দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, এবং সাহস ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি জনগণের সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন নন; বরং তিনি সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনুভূতিশীল নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন।

পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ পুনর্বহাল ও এস আলমের সম্পদ জব্দ : মাহদী আমিন বলেন, জাতীয় স্বার্থ, ইসলামী মূল্যবোধ ও জনগণের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্টে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে বাদ দেওয়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুনরায় যুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার সফলভাবে ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের অর্থনীতির দৃঢ় ও সক্ষম অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩টি দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে অর্থনৈতিক খাত, ব্যাংকিং, ও সামগ্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য।

রেমিট্যান্সে রেকর্ড ও ৬০ হাজার কোটির বিশেষ তহবিল

তিনি জানান, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসীদের আস্থার প্রতিফলনে গত মাসে দেশে রেকর্ড ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসীদের রাষ্ট্রীয় সেবার আওতায় আনতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে। এছাড়া বন্ধ কলকারখানা চালু ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে দেওয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র। মা-বোনদের সুবিধার্থে বিশেষ ভর্তুকিসহ ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ভিআইপি সংস্কৃতি বাতিল : ভিআইপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রী জনসম্পৃক্ততাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আজ তাঁকে একনজর দেখার জন্য রাস্তার দুইপাশে, এমনকি বাড়ির উঠানেও মানুষের ঢল নেমে আসে।

স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী, কোমলমতি শিশু থেকে শুরু করে মা-বোনদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও আবেগ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তিনি জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছেন। তিনি যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই শিশু-কিশোর, তরুণ-প্রবীণ, মা-বোনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তাকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ, আবেগ ও আকুলতা দেখা গেছে।

তিনি প্রটোকলের গণ্ডি ভেঙে পথে বাস থামিয়ে শিশুদের আবদার পূরণ করেছেন, তাদের কথা শুনেছেন এবং স্নেহভরে তাদের কাছ থেকে ভালোবাসার উপহার গ্রহণ করেছেন। একইভাবে কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের সঙ্গে একজন সাধারণ মানুষের মতো মিশে গিয়েছেন। তিনি নিজেকে কোনো দূরবর্তী ক্ষমতাধর বা অতিসুরক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং গণমানুষের প্রতিনিধি ও সমাজের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই প্রমাণ করছেন।

সংসদীয় ইতিহাসে নতুন মাইলফলক : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সহনশীলতা, অনন্য মানসিকতা ও মানবিক রাজনীতির পরিচয় দিয়ে আসছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরই দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, নির্বাচনে যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন কিংবা যারা ভোট দেননি; তারা সবাই এই বৈষম্যহীন সরকারের সমান সহায়তা ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদের সদ্য সমাপ্ত প্রথম অধিবেশনটি ছিল ২৫ কার্যদিবসের এক প্রাণবন্ত ও কার্যকর অধিবেশন। যেখানে রেকর্ডসংখ্যক ৯৪টি বিল পাস হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা নিজেই সংসদে সাধারণ আসনের তৃতীয় সারিতে বসে সংসদীয় রীতিনীতির প্রতি বিরল সম্মান প্রদর্শন করেছেন।

এছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বীরদের আইনি সুরক্ষায় সংসদে ঐতিহাসিক ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস করা হয়েছে এবং শতাধিক আহত যোদ্ধাকে রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংসদের দর্শনার্থী গ্যালারিগুলো সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে এবং মূল প্রবেশপথটি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যেই ফল দিতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে এসেছে এবং জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মুখপাত্র জানান, অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার এখন ঢাকা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরে ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমা দিনরাত নজরদারিতে রাখছে।

এর ফলে গভীর সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ থেকে বিপুল রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন ও মাইন ডিটেক্টর স্থাপনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গৃহীত হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবির শক্ত অবস্থান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিরই বাস্তব প্রতিফলন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি সংস্কারের ধারক এবং বাহক। বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো মৌলিক সংস্কার হয়েছে, সবগুলো কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় হয়েছে কিংবা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় হয়েছে।

ঐতিহ্যগত সেই সংস্কারকে ধারণ করেই ২০১৬ সালে ‘ভিশন ২০৩০’ প্রণয়ন করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ২০২২ সালে ‘২৭ দফা’ প্রণয়ন করেছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০২৩ সালে ‘৩১ দফা’ প্রণয়ন করা হয়েছিল চূড়ান্তভাবে এবং সেই ৩১ দফাতেই কিন্তু সংস্কারের মৌলিক ভিত্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ‘জুলাই সনদে’ উপনীত হয়েছিলাম, যেটি গণতান্ত্রিক সব রাজনৈতিক দলের সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছিল। যতটুকু সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছিল এবং সেই জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সহ বিএনপি সম্মত হয়ে যেভাবে স্বাক্ষর করেছিল; সেই স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে আমরা বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

দেশের মানুষের কাছে বিএনপি যে অঙ্গীকার করেছে এবং যে প্রতিশ্রুতির আলোকে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই তা অক্ষরে-অক্ষরে পালনের জন্য দায়বদ্ধ। একই সঙ্গে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বীরদের আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় রাখতে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস করা হয়েছে।

মেগা সিটি পরিকল্পনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ : রাজধানীকে বাসযোগ্য করতে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ঢাকা’ মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দেশে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে ২৫০টি পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেট্রোরেলের নিচের অংশকে সবুজায়ন করা হচ্ছে এবং থেকেই প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মেট্রোরেল ও ট্রেনে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় কার্যকর করা হয়েছে। দেশজুড়ে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষা, প্রযুক্তি ও যুব উন্নয়ন : শিক্ষা খাতে অনার্স পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের স্কুলব্যাগ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। বিমানবন্দর ও ট্রেনে হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মার্ট ক্লাসরুম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে কারিগটি শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নকে জোরদার করা হচ্ছে, শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর লিংকেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও যুগোপযোগী কারিকুলাম উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সাথে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনের ব্যবহারিক বিষয়ে, যার ভিত্তি আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা ও আধুনিক প্রযুক্তি।

তিনি জানান, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী মাস থেকে চালু হচ্ছে ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’। এছাড়া বেকারত্ব দূরীকরণে প্রতিটি জেলায় ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রবাসে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দূতাবাসকে ডিমান্ড ম্যাপিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ

র উদ্দেশ্য হলো কোন দেশে কী ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা রয়েছে তা নির্ধারণ করে আমাদের টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে সে অনুযায়ী কোর্স ও কারিকুলাম প্রণয়ন করা।

পাশাপাশি সনদের সমমান নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশিদের কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। ক্রীড়াবিদদের সম্মানার্থে চালু হয়েছে ‘ক্রীড়া কার্ড’ এবং ৬৪ জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস টিমের সদস্যগণ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন