

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও রাজনৈতিক লড়াই থেকে সরে আসছে না তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ পর এবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, ভোটে জনগণের সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে তাদের হারানো হয়েছে।
গত রোববার ফলতা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন ভবানীপুর কেন্দ্রের ফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি বলেন, নির্বাচনী ফলাফলে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তা আদালতেই তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে ইভিএমের ফরেনসিক পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবিও জানান তিনি।
দলীয় সূত্রের দাবি, অন্তত ৫০টির বেশি আসনে নির্বাচনী আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে। ভোট গণনায় অসঙ্গতি, ইভিএমের তথ্য এবং সিল করা নথির নম্বর নিয়ে নানা প্রশ্ন আদালতে উত্থাপন করতে চায় তৃণমূল। এ সংক্রান্ত আইনি প্রস্তুতির দায়িত্বে রয়েছেন দলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে মামলার প্রস্তুতিতে কিছু জটিলতাও তৈরি হয়েছে। দলীয় একাধিক পরাজিত প্রার্থী আদালতে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
এতে করে আইনি কৌশল নির্ধারণে সমস্যার মুখে পড়েছে দল। এ নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ জানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন দলীয় সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পর এখন অনেকেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে দলের তরুণ নেতৃত্বের একটি অংশ এই আইনি লড়াইকেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের সুযোগ হিসেবে দেখছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার নথি প্রস্তুত ও জেলা পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইভিএম ও ভোট গণনার স্বচ্ছতা। দলের দাবি, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে সিল করা নথি ও গণনার তথ্যে মিল পাওয়া যায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষ্য, জনগণের রায়কে অন্যদিকে প্রবাহিত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে হারলেও তৃণমূল এখনই প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে চাইছে না। আদালত ও জনমত—দুই ক্ষেত্রেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছে দলটি। তবে পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন, শুধু অভিযোগ নয়, আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করাই হবে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
