সোমবার
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতা ও অহংকারের জন্য আল্লাহ যে জাতিগুলো ধ্বংস করে দেয়

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

কুরআনে আল্লাহ বারবার অতীতের জাতিগুলোর ঘটনা উল্লেখ করেছেন, যখন কোনো জাতি ক্ষমতা, অহংকার ও অন্যায়ের মধ্যে ডুবে যায় এবং সতর্ক করার পরও সত্য গ্রহণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের ধ্বংস করেছেন। কুরআন-এ কয়েকটি জাতির উদাহরণ বিশেষভাবে এসেছে।

আদ জাতি — শক্তির অহংকার

আদ জাতি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও উন্নত সভ্যতার অধিকারী। তারা উঁচু দালান ও বিশাল স্থাপনা নির্মাণ করত এবং নিজেদের পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করত।

আল্লাহ তাদের কাছে নবী হুদ (আ.)-কে পাঠান। তিনি তাদের তাওহীদের দিকে ডাকেন এবং অহংকার ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু তারা বলত, “আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে আছে?”

অপরাধ

  • শক্তি নিয়ে অহংকার

  • আল্লাহকে অস্বীকার

  • দুর্বলদের প্রতি অত্যাচার

টানা কয়েক দিন ভয়ংকর ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ে পুরো জাতি ধ্বংস হয়ে যায়। কুরআনে বলা হয়েছে, তারা যেন উপড়ে পড়া খেজুর গাছের মতো পড়ে ছিল।

সামূদ জাতি — ক্ষমতা ও অবাধ্যতা

সামূদ জাতি পাহাড় কেটে ঘর বানাত। প্রযুক্তি ও স্থাপত্যে তারা খুব উন্নত ছিল।

নবী সালিহ (আ.) তাদের সতর্ক করেন। আল্লাহ তাদের জন্য একটি অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে উটনী দেন। কিন্তু তারা অহংকার করে সেই উটনীকে হত্যা করে।

অপরাধ

  • আল্লাহর নিদর্শনকে উপহাস

  • নবীর অবাধ্যতা

  • সীমালঙ্ঘন

এক ভয়াবহ বিকট শব্দ ও ভূমিকম্পে পুরো জাতি মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যায়।

নূহ (আ.)-এর জাতি — দীর্ঘস্থায়ী অবাধ্যতা

নবী নূহ (আ.) প্রায় ৯৫০ বছর মানুষকে সত্যের দিকে ডাকেন। কিন্তু ধনীরা ও নেতারা তাকে উপহাস করত।

অপরাধ

  • শিরক ও মূর্তিপূজা

  • সত্যকে নিয়ে হাসাহাসি

  • দরিদ্র মুমিনদের তুচ্ছ করা

এক মহাপ্লাবন আসে। যারা ঈমান আনেনি তারা সবাই পানিতে ডুবে যায়।

লূত (আ.)-এর জাতি — নৈতিক অবক্ষয়

এই জাতি প্রকাশ্যে বড় পাপ করত এবং সতর্ক করার পরও লজ্জা বা অনুতাপ দেখায়নি। নবী লূত (আ.) তাদের বহুবার সতর্ক করেন।

অপরাধ

  • প্রকাশ্য অশ্লীলতা ও নৈতিক বিপর্যয়

  • সত্য অস্বীকার

  • নবীকে অপমান

তাদের বসতি উল্টে দেওয়া হয় এবং আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করা হয়। ঐ অঞ্চলকে ঐতিহাসিকভাবে সোদোম ও গোমোরাহ বলা হয়।

ফেরাউন — ক্ষমতার চূড়ান্ত অহংকার

মিসরের শাসক ফেরাউন নিজেকে “সর্বোচ্চ প্রভু” দাবি করেছিল। সে বনি ইসরাঈলদের ওপর কঠোর অত্যাচার চালাত। আল্লাহ নবী মূসা (আ.)-কে পাঠান। অসংখ্য নিদর্শন দেখার পরও ফেরাউন অহংকার ছাড়েনি।

অপরাধ

  • নিজেকে ঈশ্বর দাবি

  • নির্যাতন ও জুলুম

  • সত্য জেনেও অস্বীকার

সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার পর ফেরাউন ও তার বাহিনী পানিতে ডুবে ধ্বংস হয়।

ক্ষমতা নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা হলো অহংকার, জুলুম এবং সত্য অস্বীকার করা। ইতিহাসের এসব ঘটনা মানুষকে সতর্ক করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ক্ষমতা মানুষকে আল্লাহভীতি থেকে দূরে না নিয়ে যায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X