রবিবার
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুজব সংস্কৃতি থেকে মুক্তি পেতে যা বলছে ইসলাম

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৬

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَ لَا تَقۡفُ مَا لَیۡسَ لَكَ بِهٖ عِلۡمٌ ؕ اِنَّ السَّمۡعَ وَ الۡبَصَرَ وَ الۡفُؤَادَ كُلُّ اُولٰٓئِكَ كَانَ عَنۡهُ مَسۡـُٔوۡلًا ﴿۳۶﴾

সরল অনুবাদ

৩৬. আর যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ কোরো না; কান, চোখ, হৃদয়- এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা বনি ইসরাঈলের এ আয়াতে উল্লিখিত (وَلَا تَقْفُ) শব্দটির সঠিক অর্থ, পিছু নেওয়া, অনুসরণ করা। সে অনুসারে আয়াতের অর্থ হবে, যে বিষয়ে তুমি জান না সে বিষয়ের পিছু নিয়ো না। (ফাতহুল কাদীর)

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, বোলো না।

অপর বর্ণনায় তিনি বলেছেন, যে বিষয় সম্পর্কে তোমার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে কাউকে অভিযুক্ত কোরো না। কাতাদাহ বলেন, যা দেখোনি তা বোলো না। মুহাম্মদ ইবনুল হানফিয়া বলেন, মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ো না। (ইবনে কাসীর) মোটকথা : যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে কথা বলাকে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে সবচেয়ে বড় গুনাহের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা আর পাপ এবং অসংগত বিরোধিতা এবং কোনো কিছুকে আল্লাহর শরিক করা— যার কোনো সনদ তিনি পাঠাননি, এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলা, যা তোমরা জানো না।” (আল-আরাফ, আয়াত : ৩৩) অনুরূপভাবে ধারণা করে কথা বলাও এর অন্তর্ভুক্ত। কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় ধারণা করে কথা বলা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা বিবিধ ধারণা করা থেকে বেঁচে থাকো; কেননা কোনো কোনো ধারণা করা গুনাহের পর্যায়ে পড়ে।

(সুরা : আলহুজুরাত, আয়াত : ১২) হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা ধারণা করা থেকে বেঁচে থাকো; কেননা ধারণা করে কথা বলা মিথ্যা কথা বলা।’ (বুখারি, হাদিস : ৫১৪৩; মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৩)

এ আয়াতের দুটি অর্থ করা হয়ে থাকে:

এক. কেয়ামতের দিন কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ সম্পর্কে তার মালিককে প্রশ্ন করা হবে— তুমি সারা জীবন কী কী শুনেছ? তুমি সারা জীবন কী কী দেখেছ? সারা জীবনে মনে কী কী কল্পনা করেছ এবং কী কী বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছ? যদি শরিয়তবিরোধী কাজকর্ম করে থাকে, তবে এর জন্য সে ব্যক্তিকে আজাব ভোগ করতে হবে। (ফাতহুল কাদীর)

দুই. কেয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এ ব্যাপারে স্বয়ং সাক্ষ্য দেবে। কারণ আল্লাহ সেগুলোকে প্রশ্ন করবেন। এটা হাশরের ময়দানে গুনাহগারদের জন্য অত্যন্ত লাঞ্ছনার কারণ হবে।

সুরা ইয়াসিনে বলা হয়েছে, ‘আজ (কেয়ামতের দিন) আমি এদের (অপরাধীদের) মুখ মোহর করে দেব। ফলে তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের চরণসমূহ সাক্ষ্য দেবে তাদের কৃতকর্মের।’ (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৬৫)। অনুরূপভাবে সুরা : আন-নূরে এসেছে, ‘যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে। (সুরা : নূর, আয়াত : ২৪)।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X