বুধবার
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রথম রমজানের দোয়া ও আমল: শুরুর দিনটি যেভাবে বরকতময় করবেন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

দীর্ঘ এগারো মাসের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুমিনের দুয়ারে কড়া নাড়ে পবিত্র মাহে রমজান। রমজানের প্রথম দিনটি একজন মুসলিমের জীবনের জন্য অত্যন্ত আবেগের এবং আধ্যাত্মিক গুরুত্বের।

কারণ এই একটি দিনের সঠিক সূচনার ওপর নির্ভর করে পুরো মাসের ইবাদতের মানসিক প্রস্তুতি।

রহমতের দশকের প্রথম দিনটিতে আল্লাহর বিশেষ করুণা ও সওয়াব হাসিল করার জন্য কিছু বিশেষ দোয়া ও আমল রয়েছে, যা আমাদের পালন করা উচিত। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা প্রথম রমজানের গুরুত্ব, দোয়া এবং দিনটি কাটানোর আদর্শ নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

রমজানের চাঁদ দেখার দোয়া ও গুরুত্ব

রমজানের আমল মূলত শুরু হয় চাঁদ দেখার মাধ্যমেই। যখনই আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ দেখা যায়, তখনই একজন মুমিনের ইবাদত শুরু হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) নতুন চাঁদ দেখলে একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন।

দোয়াটি হলো: "আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।" অর্থাৎ, হে আল্লাহ! এই চাঁদকে আমাদের ওপর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে উদিত করুন। আমার ও তোমার (চাঁদের) রব আল্লাহ।

চাঁদ দেখার মাধ্যমে যে রহমতের সূচনা হয়, তা মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি বয়ে আনে। প্রথম দিনের এই দোয়াটি পাঠ করার মাধ্যমে আমরা মূলত পুরো মাসের নিরাপত্তা ও ঈমানি দৃঢ়তা আল্লাহর কাছে চেয়ে নেই। নিউজ পোর্টালের পাঠকদের জন্য পরামর্শ থাকবে, তারা যেন চাঁদ দেখার সুন্নাহটি পালন করেন এবং এই দোয়ার মাধ্যমে রমজানকে স্বাগত জানান।

প্রথম রমজানের বিশেষ দোয়া ও এর তাৎপর্য

রমজানের প্রথম দিনে দোয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা নেই, তবে রহমতের দশকের প্রথম দিন হিসেবে আল্লাহর দয়া ভিক্ষা করাই শ্রেষ্ঠ দোয়া। প্রথম রমজানে ইফতারের আগে এবং সেহরির পরে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা অত্যন্ত জরুরি। হাদিসে এসেছে, রোজাদারের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।

প্রথম দিনের জন্য একটি জনপ্রিয় ও কার্যকরী দোয়া হলো: "ইয়া আরহামার রাহিমিন, আরহামনা" (হে শ্রেষ্ঠ দয়ালু, আমাদের ওপর দয়া করুন)। এছাড়া কুরআনের সেই প্রসিদ্ধ দোয়া— "রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খইরুর রহিমিন" প্রথম রমজান থেকে বেশি বেশি পাঠ করা উচিত। প্রথম দিনের আমল হিসেবে এই দোয়াগুলো পাঠ করলে মনের একাগ্রতা বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক নিবিড় হয়।

প্রথম রোজার বিশেষ আমলসমূহ

প্রথম রমজানের আমলগুলো কেবল তাসবিহ পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল জীবনপদ্ধতির নাম। নিচে আমরা প্রথম দিনের প্রধান আমলগুলো আলোচনা করছি।

সহিহ নিয়তে রোজা শুরু করা

আমলের কবুলিয়ত নির্ভর করে নিয়তের ওপর। প্রথম রমজানের অন্যতম প্রধান কাজ হলো মনের মধ্যে এই দৃঢ় সংকল্প করা যে, আমি কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই এই রোজা রাখছি।

নিয়ত মানে কেবল মুখে কিছু শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং মনের গভীর থেকে আল্লাহর হুকুম পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রথম রোজাটি যদি সঠিক নিয়তে রাখা যায়, তবে পরবর্তী ২৯ বা ৩০টি রোজা রাখা সহজ হয়ে যায়।

সুন্নতি পদ্ধতিতে সেহরি গ্রহণ

সেহরি খাওয়া কেবল খাবারের বিষয় নয়, এটি একটি বরকতময় ইবাদত। রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।" প্রথম রমজানের সেহরিতে দেরি করে খাওয়া সুন্নাহ। অতিরিক্ত খাবার খেয়ে পেট ভারী না করে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা উচিত যাতে সারাদিন ইবাদতে অলসতা না আসে।

প্রথম তারাবিহর নামাজ

রমজানের চাঁদ দেখার রাতেই প্রথম তারাবিহর নামাজ পড়তে হয়। অনেক সময় প্রথম দিন অলসতা দেখা দেয়, কিন্তু প্রথম রাত থেকেই তারাবিহর মাধ্যমে কুরআন শোনার ফজিলত অনেক বেশি।

এটি আমাদের পুরো মাসের ইবাদতের ছন্দ তৈরি করে দেয়। খতম তারাবিহ বা সূরা তারাবিহ যেভাবেই হোক, প্রথম দিনের এই দীর্ঘ নামাজ আল্লাহর কাছে বান্দার আনুগত্যের প্রমাণ দেয়।

প্রথম রমজানের দিনলিপি: ভোর থেকে এশা

প্রথম রমজানের দিনটি অন্যান্য সাধারণ দিনের মতো কাটানো উচিত নয়। এই দিনটিতে আমাদের একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা প্রয়োজন। ফজর নামাজের পর অন্তত কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াত করা প্রথম দিনের অন্যতম আমল। এরপর যোহর ও আসর নামাজের পর তসবিহ ও ইস্তিগফার পাঠ করা উচিত।

বিশেষ করে আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টি অত্যন্ত মূল্যবান। প্রথম রমজানের এই সময়ে দুনিয়াবি কথা কমিয়ে দিয়ে তাসবিহ পাঠ ও ইফতারের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে যখন সারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম দস্তরখানে বসে আল্লাহর হুকুমের অপেক্ষা করেন, সেই সময়টি রহমত পাওয়ার শ্রেষ্ঠ সুযোগ। প্রথম ইফতারের আগে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা প্রথম রমজানের বড় আমল।

প্রথম রমজানে যা বর্জনীয়

প্রথম রমজানে অনেকেই খাবারের দিকে বেশি মনোযোগ দেন, যা ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট করে। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া রোজার প্রথম দিনে শরীর কিছুটা ক্লান্ত থাকতে পারে, তাই দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে দিন পার করে দেওয়া ঠিক নয়।

রোজা রেখে মিথ্যা বলা, গিবত করা বা কারো সাথে ঝগড়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রথম দিনে যে অভ্যাস তৈরি হবে, তা পুরো মাস আপনার সাথে থাকবে।

প্রথম রমজান হলো বরকতময় একটি মাসের প্রবেশদ্বার। এই দিনের প্রতিটি সেকেন্ড আমাদের জন্য মূল্যবান।

দোয়া ও আমলের মাধ্যমে দিনটি শুরু করতে পারলে আমরা রমজানের প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পারব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রথম রমজান থেকেই সিয়াম ও কিয়ামের হক আদায় করার তৌফিক দান করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. প্রথম রমজানের নিয়ত কখন করতে হয়?

রমজানের রোজা রাখার জন্য শেষ রাতে সেহরি খাওয়ার সময় নিয়ত করা উত্তম। তবে যদি কেউ সেহরি খেতে না পারেন, তবে সুবহে সাদিকের আগে মনে মনে নিয়ত করলেই রোজা হয়ে যাবে।

২. প্রথম রমজানে কি বিশেষ কোনো নফল নামাজ আছে?

না, প্রথম রমজানের জন্য আলাদা কোনো নফল নামাজ নেই। তবে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি তারাবিহ এবং সম্ভব হলে তাহাজ্জুদ আদায় করা অনেক সওয়াবের কাজ।

৩. প্রথম দিন কুরআন তিলাওয়াত করার বিশেষ কোনো নিয়ম আছে কি?

প্রথম দিন থেকেই কুরআন খতমের লক্ষ্য স্থির করা উচিত। প্রতিদিন এক পারা করে পড়লে পুরো মাসে একবার খতম দেওয়া সম্ভব। প্রথম দিন অন্তত প্রথম পারা বা সুরা বাকারার শুরুর অংশ পড়া যেতে পারে।

৪. প্রথম রমজানে ইফতারের দোয়া কোনট?

ইফতারের সময় রাসূল (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন: "যাহাবায যামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।" (তৃষ্ণা দূর হলো, শিরাগুলো সিক্ত হলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সওয়াব নির্ধারিত হলো)।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X