

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামি সভ্যতার ইতিহাসে খলিফা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। তাঁর খিলাফতের সময় মুসলিম উম্মাহর জন্য বহু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এর মধ্যে অন্যতম হলো হিজরি সন প্রবর্তন, যা এখনো বিশ্ব মুসলমানদের জন্য সময় নির্ধারণের প্রধান পঞ্জিকা।
হজরত উমর (রা.) তাঁর শাসনামলে শুধু হিজরি সনই নয়, বরং নাগরিকদের তালিকা তৈরি, বিচারকার্যে কাজি নিয়োগ, ডাকব্যবস্থা চালু, প্রদেশভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো গঠনসহ বহু সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এমনকি তারাবিহ নামাজ জামাতে আদায়ের ব্যবস্থা চালু করার কৃতিত্বও তাঁর।
৫৮৩ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশে জন্ম নেওয়া উমর (রা.) শৈশব থেকেই যুদ্ধবিদ্যা, কুস্তি ও বক্তৃতাশৈলীতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ব্যবসায়ী এবং শক্তিশালী কুস্তিগির। আরবের মেলাগুলোতে অংশ নিয়ে বহুবার জয়ী হয়েছিলেন তিনি।
ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি ছিলেন প্রবল বিরোধীদের একজন। কিন্তু একদিন নিজের বোন ফাতিমা ও ভগ্নিপতির কাছ থেকে কোরআনের আয়াত শুনে তাঁর হৃদয়ে পরিবর্তন আসে। সুরা ত্বহা পাঠের পর তিনি নবী করিম (সা.)–এর কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।
মদিনায় হিজরতের পর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ ও চুক্তিতে হজরত উমর (রা.) সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। খাইবার যুদ্ধের পর নিজের প্রাপ্ত অংশ ওয়াকফ করে দেন আল্লাহর রাস্তায়। তাবুক অভিযানে নবী করিমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজের অর্ধেক সম্পদ দান করেন তিনি।
খিলাফতের সময় ২৩ হিজরিতে ফজরের নামাজে আবু লুলু ফিরোজ নামে এক মাগির আক্রমণে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। তিন দিন মৃত্যুশয্যায় থাকার পর তাঁর ইন্তেকাল হয়। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তাঁকে মদিনার মসজিদে নববিতে হজরত আবু বকর (রা.)-এর পাশে সমাহিত করা হয়।
ইসলামের প্রশাসনিক কাঠামো, সংস্কার এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রসারে হজরত উমর (রা.)-এর অবদান আজও মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
মন্তব্য করুন

