

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার মাধ্যমে আত্মত্যাগ, ত্যাগস্বীকার ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা পাওয়া যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)–এর আত্মোৎসর্গের স্মৃতি জাগ্রত রাখতেই কোরবানির এই প্রথা আজও মুসলমানদের মধ্যে পালিত হয়।
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলমান, যাঁর কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে—তাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব। নিসাব হলো সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ, সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ ও সম্পদ।
কোরবানির সময় ও পশু? জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগে পর্যন্ত কোরবানি করা যায়। একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা = এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে। একটি গরু, মহিষ বা উট = সর্বোচ্চ সাতজনের পক্ষ থেকে।
কোরবানির পশু নারী বা পুরুষ—যেকোনো মুসলমান জবাই করতে পারেন। নিজ হাতে জবাই করা উত্তম। দোয়া মুখস্থ না থাকলেও শুধু “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বললেই যথেষ্ট। জবাইয়ের সময় নিয়ত বা কোরবানিদাতার নাম উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়; অন্তরের ইচ্ছাই নিয়ত হিসেবে গণ্য হবে।
ধনী–গরিব সবাই কোরবানির গোশত খেতে পারেন। সুন্নত হলো— ১. কিছু অংশ আত্মীয়স্বজনকে দেওয়া, ২. কিছু অংশ গরিব–প্রতিবেশীদের দেওয়া, ৩. কিছু অংশ পরিবারে রাখা।
চাইলে পুরোটা নিজেরাও রাখতে পারেন বা সবটাই বিতরণ করতেও পারেন। নারী, শিশু ও অন্যদের পক্ষ থেকে কোরবানি। সামর্থ্যবান নারীও কোরবানি করতে বাধ্য। শিশুদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।
জীবিত বা মৃত যে কারও পক্ষ থেকে নফল কোরবানি দেওয়া যায়। গরু বা উট সাত ভাগে ভাগ করে আকিকাও দেওয়া সম্ভব, চাইলে একই সঙ্গে কোরবানি ও আকিকা আদায় করা যায়।
টাকার বিনিময়ে কোরবানির বিকল্প নেই। কেবল টাকা দান বা সদকা দিয়ে কোরবানি আদায় হয় না। পশু জবাই করাই একমাত্র মাধ্যম। তবে ইচ্ছা করলে কেউ প্রতিনিধি, আত্মীয়স্বজন বা বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়ে কোরবানি করাতে পারেন।
গরিবদের শামিল করা: কোরবানির পাশাপাশি দরিদ্র মানুষকে ঈদের আনন্দে শামিল করা, যেমন আর্থিক অনুদান দেওয়া, কাপড় বিতরণ, খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা—এসব কাজ দ্বিগুণ সওয়াবের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মন্তব্য করুন
