সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিলহজ মাসে চুল-নখ না কাটার নির্দেশ, এটা কী সবার জন্য 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

পবিত্র জিলহজ মাস শুরু হলে এবং কেউ কুরবানির নিয়ত করলে তার জন্য কুরবানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চুল, নখ কিংবা শরীরের কোনো অংশ না কাটার বিষয়ে ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামী স্কলারদের মতে, এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত এবং মুস্তাহাব আমল।

সহিহ মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদিসে উম্মে সালামা (রা.) থেকে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“তোমাদের কেউ যদি কুরবানির ইচ্ছা করে, তবে জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানি করা পর্যন্ত সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে।”

ফকিহদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকেই এই আমল শুরু হবে। অর্থাৎ, ১ জিলহজের রাত থেকে কুরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত চুল, নখ বা ত্বকের কোনো অংশ কাটা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের অধিকাংশের মতে, এটি ফরজ নয়; বরং সুন্নত বা মুস্তাহাব। অর্থাৎ পালন করলে সওয়াব রয়েছে, তবে ভুলবশত চুল বা নখ কেটে ফেললে কুরবানি সহিহ হবে।

সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ ইবনে বাজও বলেছেন, কুরবানিদাতার জন্য চুল-নখ না কাটা উত্তম আমল।

আলেমদের একাংশের মতে, এই নির্দেশ মূলত সেই ব্যক্তির জন্য, যিনি কুরবানির নিয়ত করেছেন এবং যার নামে কুরবানি আদায় হবে। পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর এটি বাধ্যতামূলক নয়।

যদি কেউ ভুলে বা না জেনে চুল কিংবা নখ কেটে ফেলেন, তাহলে তার কুরবানি নষ্ট হবে না। তবে পরবর্তীতে বাকি সময় এই আমল মেনে চলা উত্তম বলে আলেমরা মত দিয়েছেন।

হজযাত্রীদের সঙ্গে আধ্যাত্মিক মিল ও আত্মত্যাগের চেতনা জাগ্রত করতেই কুরবানিদাতাদের জন্য এই আমল নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি তাকওয়া, সংযম ও ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব বাড়ায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন