

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের ঐতিহাসিক লিবার্টি স্কয়ারে ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৬টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি আন্দোলনের পটভূমি, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং এর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
বক্তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব নিয়েও মতবিনিময় করেন। এ সময় আন্দোলনের বিভিন্ন দিক ও এর প্রভাব নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আলোচনা হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও উঠে আসে। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে জনগণের ওপর শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনমতের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে তাঁরা ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়ের ঘটনাও উল্লেখ করেন। বক্তাদের মতে, তৎকালীন শাসক রাজা লক্ষ্মণ সেনের শাসনে অসন্তুষ্ট জনগণের একাংশ বখতিয়ার খিলজির সহযোগিতা কামনা করেছিল এবং তাঁর অভিযানের সময় লক্ষ্মণ সেন রাজধানী ত্যাগ করেন। বক্তারা এই ঘটনাকে একটি ঐতিহাসিক রূপক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁদের দৃষ্টিতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের সময়ও দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ চরমে পৌঁছায়।
তাঁদের মতে, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে ৫ আগস্ট গণভবন অভিমুখে লং মার্চের মধ্য দিয়ে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। বক্তারা এই দুই ঘটনাকে জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তুলনা করেন।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন সরকারের দীর্ঘস্থায়িত্বে কিছু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গোষ্ঠীর ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও চেতনা সংরক্ষণে করণীয়। অংশগ্রহণকারীরা এ বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়; বরং এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকারের দাবিতে সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁরা প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদেরও দেশের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত, আহত ও সংগ্রামীদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সামান্য আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।