

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকদের কর্মস্থল পরিবর্তনের স্বাধীনতা, কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন বন্ধ এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সিউলে একটি সাক্ষ্য প্রদান সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের শ্রমিকেরা কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন, বকেয়া বেতন, কর্মস্থলে সহিংসতা এবং নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল পরিবর্তনে বাধার মতো নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে সিউলের (Seodaemun Station)–সংলগ্ন Korean Confederation of Trade Unions (KCTU)–এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা কেন্দ্রে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে অভিবাসী শ্রমিকদের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিক বলেন, কর্মস্থলে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হলেও অনেক সময় তারা চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন না। কারণ, বিদ্যমান ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার সম্মতি বা নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কর্মস্থল পরিবর্তন কঠিন হয়ে পড়ে।
এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “কর্মক্ষেত্রে অন্যায় বা নির্যাতনের শিকার হলেও অনেক সময় চাইলেই অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে পারি না। ফলে নানা পরিস্থিতি সহ্য করেই কাজ চালিয়ে যেতে হয়।”
বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ জানানো বা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষোভ প্রকাশের বাইরে এসে শ্রমিকদের সংগঠিতভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা এবং নীতিগত পরিবর্তনের দাবি জানানো প্রয়োজন। তাঁদের মতে, অভিবাসী শ্রমিকদের সমস্যাগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরলে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সহজ হবে।
সভায় উপস্থিত শ্রমিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, বৈষম্যহীন পরিবেশ এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক শ্রমমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের দাবি, অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা করে আরও কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সভা থেকে আয়োজকেরা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- নিয়োগকর্তার অনুমতির বাধ্যবাধকতা শিথিল বা বাতিল করে শ্রমিকদের কর্মস্থল পরিবর্তনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। কর্মক্ষেত্রে সব ধরনের শারীরিক, মানসিক ও বর্ণবাদী নির্যাতন এবং সহিংসতা বন্ধ করা। বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ এবং অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য সমঅধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। অনিবন্ধিত অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ ও প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
আয়োজকেরা বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে অভিবাসী শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই তাঁদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন এবং মৌলিক শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তারা আরো বলেন , কর্মস্থল পরিবর্তন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকদের অধিকারসংক্রান্ত নীতিগত সংস্কারের দাবিতে ভবিষ্যতেও তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।