

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইতালির বহুল আলোচিত ভিসা জালিয়াতি কেলেঙ্কারিতে দুই বাংলাদেশি দালাল নজরুল ইসলাম ও কাজি শামিম আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। আদালতের রায়ে নজরুল ইসলামকে ৪ বছর ৮ মাস এবং কাজি শামিমকে ৪ বছর ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার তদন্তে উঠে এসেছে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চক্রের ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র, যেখানে ইতালিতে কাজের ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে জনপ্রতি ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত নেওয়া হতো।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী
বাংলাদেশ থেকে ইতালির কাজের ভিসা পাইয়ে দিতে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো। ‘নুল্লা ওস্তা’ (Nulla Osta) সংগ্রহের জন্য ইতালীয় কিছু অসাধু মালিক ৪–৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত নিতেন।ফাইল দ্রুত ছাড়ানোর জন্য প্রিফেকচার বা পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রায় ৩০০ ইউরো ঘুষ দেওয়া হতো।শুধু নগদ অর্থ নয় দামী ঘড়ি, টেলিভিশন, গাড়ি এবং দুবাই ভ্রমণের মতো বিলাসদ্রব্যও ঘুষ হিসেবে দেওয়া হতো।দূতাবাসে ঘুষের অভিযোগ
নজরুল ইসলামের জবানবন্দিতে উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২২ সালে ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাসের কর্মী নিকোলা মুসকাতেল্লো-র জন্য ১০ হাজার ইউরো নগদ ঘুষ দেওয়া হয়েছিল।
৪০টি ভিসা অনুমোদনের জন্য মোট ৩০ হাজার ইউরোর চুক্তি হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, দূতাবাসের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা এই নেটওয়ার্কে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
এমপিকে ঘুষের প্রস্তাব, ফাঁস হলো কেলেঙ্কারি। ইতালির সংসদ সদস্য আন্দ্রেয়া দি জুসেপ্পে-কে প্রায় ২০ লাখ ইউরো ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পুলিশে অভিযোগ জানান। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয় ব্যাপক তদন্ত, যা পরবর্তীতে এই বিশাল আন্তর্জাতিক ভিসা জালিয়াতি চক্রকে প্রকাশ্যে আনে।
অভিযুক্তরা আদালতে দোষ স্বীকার করায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় সাজা নিশ্চিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইতালীয় কর্মকর্তা ও মালিকদের বিরুদ্ধেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলাটি ইতালির বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতালিতে কাজের ভিসা পেতে গিয়ে হাজারো প্রবাসী বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক দালাল চক্র, অসাধু মালিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশ স্পষ্ট হয়েছে।ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আরও কড়াকড়ি আসতে পারে। প্রবাসীদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা—অবৈধ দালালের ফাঁদে না পড়ার জন্য।
মন্তব্য করুন
