সোমবার
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেগম জিয়াকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবেই চিনেছি : শিবির সভাপতি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৫২ পিএম
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম
expand
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি বরাবরই বেগম খালেদা জিয়াকে এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখেছেন, যিনি দেশের স্বার্থের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি।

তাঁর মতে, বিএনপি চেয়ারপারসনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নম্র আচরণ, ধৈর্য এবং অটল অবস্থানের বিশেষ সমন্বয় লক্ষ করা যায়।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ১/১১–এর সময় থেকে সাম্প্রতিক নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি পর্যন্ত বেগম জিয়া যে দৃঢ়তায় অবিচারকে মোকাবিলা করেছেন, তা তাকে জাতীয় রাজনীতিতে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতিতে তিনটি বিষয়- জাতীয় ঐক্য গড়ার চেষ্টা, আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং পার্বত্য অঞ্চলে কৌশলী রাজনৈতিক ভূমিকা- তাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে।

তাঁর মতে, জিয়াউর রহমান দেশের রাজনীতিতে বিভাজন নয়, বরং ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

শিবির সভাপতি জানান, বেগম জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সাধারণ মানুষ যে দোয়া, সহমর্মিতা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে- তা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরল এক উদাহরণ।

তিনি মনে করেন, পরিবর্তনশীল সময়ে দেশ পরিচালনা এবং নীতিনির্ধারণে বেগম জিয়ার অভিজ্ঞতা আগামী প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে।

তরুণদের রাজনৈতিক মনোভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, আধুনিক প্রজন্ম কোনো ব্যক্তি বা দলকে নয়, বরং যারা অগণতান্ত্রিক আচরণ করে বা বিদেশি শক্তির কাছে আত্মসমর্পণের মানসিকতা দেখায়- তাদের প্রত্যাখ্যান করতে বেশি আগ্রহী। তাঁর মতে, বিএনপি প্রতিষ্ঠাতার আদর্শ ও নীতি ধরে রাখতে পারলে দলটি শক্তিশালী থাকবে, অন্যথায় সেই ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

বাম রাজনৈতিক দল এবং কিছু বিদেশির ভূমিকায় সন্দেহ প্রকাশ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, এসব শক্তি দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্থায়ী কোনো উপকার করেনি; বরং বিভাজন, মতবাদের সংঘাত এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি বিদ্বেষই বেশি দেখা গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এ ধরনের শক্তির ওপর নির্ভরতা ক্ষতিকর হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দমন-পীড়নে ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি, ছাত্রশিবির ও জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মীকে দেখেছেন।

তাঁর মন্তব্য, ৩৬ জুলাইয়ের পর বিএনপি যে ধরনের নীতি অনুসরণ করছে, তা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শেষ পর্যন্ত তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সহনশীল রাজনীতি, আদর্শগত দৃঢ়তা এবং জাতীয় ঐকমত্যের পরিবেশ তৈরি হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন