শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রদর্শনীতে মুজিব থাকলেও নেই শহীদ জিয়া, যা বললেন জামায়াতের আমির

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
expand
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একনায়কতন্ত্র উল্লেখ করে বেশ কিছু ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। যেখানে ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ছবি স্থান পেয়েছে। স্থান পেয়েছে ভারতীয় বাহিনীকে মুজিব যেদিন বিদায় করেছিলেন, সেই ছবিও। শেখ মুজিবুর রহমানের এসব ছবি প্রদর্শিত হলেও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি বা উল্লেখযোগ্য কোনো বিষয় ছিল না।

এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই সমালোচনাও করছেন প্রদর্শনীর এই অংশকে।

তবে অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে জামায়াত বলছে, শেখ মুজিবের ছবি সংবলিত যে বিলবোর্ড প্রচার করা হচ্ছে, সেটিতে মূলত দেশের ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু শহীদ জিয়া কর্তৃত্ববাদী শাসক ছিলেন না, সেহেতু সেখানে তাঁর ছবি দেওয়া হয়নি। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রদর্শনীটি কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান কর্তৃত্ববাদী শাসক ছিলেন না বলেই তাঁর ভাষণ সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

শনিবার (০৮ আগস্ট) রাজধানীতে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইতিহাসে যার যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তার প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধাশীল। এ বিষয়ে আমরা নির্মোহ ও বাস্তববাদী থাকার চেষ্টা করেছি। উনি (জিয়াউর রহমান) তো অটোক্রেট শাসক ছিলেন না। যারা কর্তৃত্ববাদী ছিল, যারা আগ্রাসী ছিল, তাদের আমরা এখানে দেখিয়েছি। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। আবার যারা মুক্তি দিয়েছেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে যাদের অবদান রয়েছে, সেটাও আমাদের ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে।’

শফিকুর রহমান বলছেন, ‘সাড়ে ১৫ বছর বিভিন্নভাবে মানুষের অধিকার হরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা আন্দোলন করেছি, দফায় দফায় জীবন দিয়েছি, পঙ্গু হয়েছি, জেলে গেছি, মামলার ভার কাঁধে নিয়েছি। কিন্তু তাতেও বিদায় হয়নি। অবশেষে জুলাইয়ে আবারও মানুষ জেগে উঠল, ছাত্ররা গর্জে উঠল। আন্দোলন দমন করতে গিয়ে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলা চালানো হয়। মেয়েদের গায়ে হাত ওঠার পর মায়েরাও রাস্তায় নেমে আসেন। এরপর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার মধ্য দিয়ে নতুন করে হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। একই সময়ে ঢাকায় দুজন এবং চট্টগ্রামে তিনজন নিহত হন। ১৮ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘৩ আগস্ট জাতির ভাগ্য নির্ধারণের একটি সুযোগ তৈরি হয়। সেনাবাহিনীর সাধারণ অফিসার ও জওয়ানরা যখন অস্বীকৃতি জানালেন যে তারা আর জনগণের বুকে অস্ত্র ধরবেন না, গুলি ছুড়বেন না, তখনও শেখ হাসিনা খুনের নেশা থেকে সরে আসেননি। বাহিনীপ্রধানদের তিনি ধমকিয়েছেন, গালিগালাজ করেছেন। তবুও তারা বলেছেন, এখন যদি অস্ত্র ধরি, লাখ লাখ মানুষের জীবন যাবে। কিন্তু তিনি নাকি বলেছেন, যত লাশ ঝরে ঝরুক, ঝরিয়ে দাও, এদের ঘরে ফিরিয়ে দাও। তারা রাজি হননি।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন