

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ। আর ১২ থেকে ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে ১১৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।
তবে নতুন স্কেলে নির্ধারিত পুরো বেতন একসঙ্গে কার্যকর হবে না। সরকারি চাকরিজীবীদের বর্ধিত মূল বেতন তিন ধাপে এবং নতুন হারে বিভিন্ন ভাতা চতুর্থ ধাপে কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা পর্যায়ক্রমে হাতে পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
নতুন বেতন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। এটি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
কোন ধাপে কত শতাংশ বেতন বাড়বে
নতুন পে-স্কেলে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ছে। এই বর্ধিত অংশ তিন ধাপে কার্যকর হবে।
প্রথম ধাপ—১ জুলাই ২০২৬: বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপ—১ জানুয়ারি ২০২৭: বর্ধিত অংশের আরও ৩০ শতাংশ তৃতীয় ধাপ—১ জুলাই ২০২৭: বাকি ৩০ শতাংশ চতুর্থ ধাপ—১ জানুয়ারি ২০২৮: নতুন স্কেল অনুযায়ী বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা কার্যকর
অর্থাৎ, নতুন মূল বেতনের পুরো সুবিধা পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত। আর নতুন হারে বিভিন্ন ভাতার সুবিধা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।
নবম গ্রেডের কর্মকর্তার বেতন কীভাবে বাড়বে
ধরা যাক, ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী নবম গ্রেডে চাকরিতে যোগ দেওয়া একজন কর্মকর্তার প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। নতুন পে-স্কেলে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে তার প্রারম্ভিক মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা।
এ ক্ষেত্রে বর্তমান মূল বেতন থেকে বাড়তি ২২ হাজার টাকা একবারে যোগ হবে না। তিন ধাপে এই বর্ধিত অর্থ যুক্ত হবে।
১ জুলাই ২০২৬: বাড়তি ২২ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৮ হাজার ৮০০ টাকা যোগ হবে। ফলে মূল বেতন দাঁড়াবে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা।
১ জানুয়ারি ২০২৭: আরও ৩০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হবে। তখন মূল বেতন হবে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা।
১ জুলাই ২০২৭: বাকি ৩০ শতাংশ বা আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হয়ে মূল বেতন দাঁড়াবে ৪৪ হাজার টাকা।
এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকার ভিত্তিতে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতা নতুন কাঠামো অনুযায়ী পাওয়ার কথা।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও যুক্ত হবে
উপরের হিসাবটি শুধু প্রারম্ভিক মূল বেতনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে একজন সরকারি চাকরিজীবীর বেতন আরও বেশি হতে পারে। কারণ, সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর মূল বেতনের সঙ্গে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়।
ফলে চাকরিতে যোগদানের সময়, বর্তমান বেতন, প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট এবং নতুন পে-স্কেলের ধাপ অনুযায়ী একজন কর্মচারীর প্রকৃত বেতন নির্ধারিত হবে।
নতুন পে-স্কেলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। তবে পুরো বেতন ও ভাতার সুবিধা পেতে নির্ধারিত ধাপ অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হবে।


