

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ–এ ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে, যা সাধারণ আসনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বণ্টিত হয়।
এবারের নির্বাচনে এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। হিসাব অনুযায়ী, সংরক্ষিত ৫০টির মধ্যে প্রায় ৩৫টি আসন পেতে যাচ্ছে দলটি।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক।
নির্বাচন কমিশন বলছে, রোজার মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করে ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিগগিরই দলগুলোর মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বিএনপির ভেতরে তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এবার মনোনয়নে রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও দলের প্রতি অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তরুণ নেতৃত্বকেও মূল্যায়নের ইঙ্গিত মিলছে।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে হাইকমান্ড থেকে। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নজর এখন শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে।
এরই মধ্যে শতাধিক নারী নেত্রী মনোনয়নের প্রত্যাশায় সক্রিয় হয়েছেন। কেউ কেউ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, আবার কেউ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও অতীত ভূমিকা তুলে ধরছেন।
দলের ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ এবং সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী।
এ ছাড়া সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরার মতো নামও ঘুরছে আলোচনায়। সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপার নামও শোনা যাচ্ছে।
এর বাইরে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী/বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, মহিলা দলনেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি ও শাহিনুর সাগরের নাম শোনা যাচ্ছে।
দলের একটি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ নির্বাচনে সাধারণ আসনে মনোনয়ন না পাওয়া অনেক নারী নেত্রী এবার সংরক্ষিত আসনে এগিয়ে থাকতে পারেন।
দলীয় একাধিক নেতা বলছেন, ইসির তফসিল অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগোলেও মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংগঠনিক অবদান ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত জল্পনা-কল্পনা চললেও, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত দেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফলে এখন দলীয় অঙ্গনে সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে আলোচনা-প্রত্যাশা দুটিই তুঙ্গে।
মন্তব্য করুন

