বৃহস্পতিবার
১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিংবদন্তি ২ নায়কের সঙ্গে অভিনয় করেছেন মির্জা ফখরুল

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand
এনপিবি গ্রাফিক্স

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অতিপরিচিত নাম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা এই হেভিওয়েট নেতা বর্তমানে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নতুন করে চর্চায় এসেছেন।

বিএনপি তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার পর কেবল তার রাজনৈতিক পথচলাই নয়, বরং তার ব্যক্তিজীবনের নানা আড়ালে থাকা অধ্যায় নিয়েও সাধারণ মানুষের কৌতূহল তুঙ্গে পৌঁছেছে।

রাজনীতির উত্তপ্ত ময়দানে মির্জা ফখরুলকে দেখতে সবাই অভ্যস্ত হলেও, তার সাংস্কৃতিক ও নাট্যজীবনের পরিচয়টি অনেকের কাছেই অচেনা। রাজনীতিতে পোড়খাওয়া এই মানুষটি একসময় দাপিয়ে বেরিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গন।

কেবল অভিনয়ই নয়, নাটকের নির্দেশনা দেওয়া থেকে শুরু করে মঞ্চনাটক নির্মাণের পেছনেও ছিল তার সক্রিয় ভূমিকা। বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে অনেক চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুলের নাট্যচর্চার শুরুটা হয়েছিল ছাত্রজীবন থেকেই। ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী নাট্যচর্চার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, ফণী ভূষণ পালিদের হাত ধরেই তার নাট্যাঙ্গনে হাতেখড়ি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের অভিষেক উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে যে নাট্য সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই ধারার সঙ্গেই গড়ে উঠেছিল তার শৈল্পিক সত্তা।

তার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিক হলো ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া। খ্যাতিমান চিত্রনায়ক রহমান (আবদুর রহমান)- যিনি সম্পর্কে তার মামাতো ভাই- এবং ‘নবাব’ খ্যাত প্রখ্যাত অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের সাথে একই মঞ্চে অভিনয় করেছেন তিনি।

কেবল তাদের সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করাই নয়, তাদের নিয়ে নাটক পরিচালনার সুযোগ পাওয়াকেও নিজের জীবনের অন্যতম বড় সৌভাগ্য হিসেবে মানেন এই রাজনীতিক।

শিক্ষকতা, রাজনীতি ও সংস্কৃতি- জীবনের তিন ভিন্নধর্মী অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন মির্জা ফখরুল। একসময়ের শিক্ষক ও বর্তমানের শীর্ষ রাজনীতিকের কাছে যখন জানতে চাওয়া হয়, এই তিনের মধ্যে কোনটি তার সবচেয়ে প্রিয় বা উপভোগ্য ছিল?

তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বেছে নেন সংস্কৃতির জগৎকে। তার সাফ কথা, ‘নিঃসন্দেহে সাংস্কৃতিক জগৎটাই বেশি উপভোগ্যের বিষয়।’

দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রাম ও টানাপোড়েনের আড়ালে থাকা মির্জা ফখরুলের এই শৈল্পিক পরিচয়টি প্রমাণ করে, রাজনীতির মঞ্চে ওঠার অনেক আগেই তিনি বাস্তব মঞ্চের আলো ও দর্শকের করতালিতে অভ্যস্ত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে থাকা এই নেতার ব্যক্তিত্বে সাংস্কৃতিক মননশীলতার ভূমিকাও তাই কম নয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank