

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন, এটা কি আসলে প্রয়োজন? বাস্তবতা ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যাক:
সাম্প্রতিক সময় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে পুরুষ নির্যাতন দমন আইন চেয়ে রীট করা হয়েছিল এবং রীটটি খারিজ হয়েছে। এটা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে একটি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে যে কেন এমন হল?
যুগে যুগে মানুষের দ্বারা মানুষ নির্যাতিত হয়ে আসছে। সেখানে দেখা যায় যে নারীরা পুরুষের দ্বারা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। শারীরিক, মানসিক কিংবা আর্থিক অথবা সম্পত্তিগত ভাবে।
সেই নির্যাতনের মাত্রা অর্থাৎ এধরনের অন্যায়মূলক কাজের পরিমাণ যখন বৃদ্ধি পেয়েছে যখনই আসছে নারী নির্যাতন দমন আইন। আমাদের রাষ্ট্রে অন্যায় ও অপরাধ প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন আইন আছে। যেমন সংবিধান, দণ্ডবিধি, অথবা বিশেষ অপরাধ সম্পর্কিত আইন এবং সম্পত্তি বা অর্থ সংক্রান্ত আইন। এই সকল আইনে বিভিন্ন ধরনের অন্যায় ও অপরাধ দমনে যথেষ্ট পরিমাণ প্রতিকার আছে।
নারী নির্যাতন দমন আইনের কিছু বিশেষত্ব আছে:
যেমন নারী ও শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণ, ধর্ষণ, যৌতুক, আত্মহত্যা, যৌন নিপীড়ন ও মৃত্যু, জোর পূর্বক ভিক্ষাবৃত্তি সহ এধরনের অপরাধে বিশেষ বিচার, শাস্তি, প্রতিকার ও আদালতের ব্যবস্থা আছে।
এই ধরনের অপরাধে বিষয়ে অন্যান্য আইনেও ছিল। তবে সেই আইন থাকা সত্বেও এই আইন করার কারণ ছিল বিশেষ ব্যবস্থা এবং প্রচলিত আদালতের বাহিরে গিয়ে বিশেষ আদালত তৈরি করা। বিশেষ আদালত তৈরি করার ফলে নিয়মিত আদালতে মামলা জট কমে যায়, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং বিশেষ আদালতে বিচারের সুবিধা থাকে। তবে বাস্তবতা হল এখনও এই আইনের বাস্তব প্রতিকার শতভাগ পূর্ণ হয় নাই। এর ফলে নিয়মিত আদালত থেকে অনেক মামলা বিশেষ আইনের অধীনে বিশেষ আদালতে চলে গিয়েছে।
আলাদাভাবে যদি পুরুষ নির্যাতন আইন তৈরি করা হয় তবে প্রচলিত আদালত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে, বিশেষ করে নিয়মিত ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট বা সেশন কোর্ট। এখন সেখানে পুরুষদের বিচার হচ্ছে। আর নারীদের আলাদা বিশেষ ব্যবস্থা বর্তমানে আছেই। সুতরাং সেই মামলার জট নিয়মিত আদালতে আসে না। আর নতুন আইনে কি ধরনের অপরাধের সংজ্ঞা, বিচার ও প্রতিকার করা হবে সেটিও জানার বিষয় আছে? সংবিধানের Doctrine of equality সমতা বিধানের বাধ্যবাধকতা তুলে ধরে বিশেষ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না। যেটিকে বলে doctrine of positive discrimination। { অনুচ্ছেদ ২৮(৪) }। এটি মূলত পিছিয়ে পরা জাতির জন্য। তবে doctrine of positive discrimination প্রয়োগ করতে গিয়ে right to equality তথা সমতা বিধানের অধিকার যাতে লঙ্ঘন না হয় সে দিকেও খেয়াল করা উচিত। কিন্তু এখানে নারীদের বিশেষ সুবিধা দিতে গিয়ে প্রচলিত আইন ও আদালত ব্যবস্থার কোনো সমস্যা হয় নাই বরং মামলা জট কমে আরও সুবিধা হয়েছে এবং প্রচলিত আইন ও আদালত ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে উপরে বর্ণিত কোনো মূলনীতির সমস্যা হবে না বরং সমান্তরাল ভাবে চলতে পারবে।
আবার পারিবারিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা হলে সেই ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালত আছে, যার অধীনে পাচ ধরনের দেউয়ানী প্রকৃতি ( civil nature) সংক্রান্ত সমস্যার বিচার ও প্রতিকার আছে। সেই আদালতে এখতিয়ার ও বিশেষ বিবেচনা সাপেক্ষে বৃদ্ধি করা যেতে পারে। কেননা নারী ও পুরুষের অনেক সমস্যা পারিবারিক কেন্দ্রীক হয়ে থাকে। আবার আছে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, যেখানে সহিংসতা দমনের প্রয়োজনে পারিবারিক আদালত বা বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তৈরি করা যেতে পারে। প্রচলিত আইন ও আদালত ব্যবস্থার পরিপূর্ণ প্রয়োগ করা প্রয়োজন। তখন অনেক অন্যায় ও অপরাধ দমন ও প্রতিরোধ ও প্রতিকার হবে।
তারপরে অপরাধে পরিসংখান, প্রয়োজনীয়তা, বর্তমানের অপরাধের যে সংজ্ঞা আছে তার দূর্বলতা বিবেচনা করে তখন বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া বর্তমানে যে ধরনের অপরাধ মূলক সংজ্ঞা আছে সেগুলো ও সংশোধন করে দূর্বলতা দূর করা যেতে পারে।
জিসান তাসফিক
শিক্ষানবীস আইনজীবী, ঢাকা আইনজীবী সমিতি

