


বাংলাদেশে যে সমস্যাটি দিন দিন মহামারীতে রূপ নিয়েছে তা হলো মাদক ৷ বিশ্বের অনেক দেশে আজ মাদক গ্রহন ও মাদকাসক্তি এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে। বাংলাদেশও এই বিপর্যয়ের বাইরে নয়। মাদকের থাবায় বিশেষ করে দেশের কিশোর-কিশোরী ও যুবসমাজ মারাত্মকভাবে নিমজ্জিত। দেশজুড়ে মাদকের আগ্রাসন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাদকের ছোবলে বিষিয়ে উঠছে যুবসমাজ। খোদ সরকারি একাধিক সংস্থার পর্যবেক্ষণেই মাদক আগ্রাসনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশে মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ৬৮ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। এদের মধ্যে ৮৪ ভাগ পুরুষ, ১৬ ভাগ নারী। দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ নানাভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের নিজস্ব এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বর্তমানে দেশে মাদক হিসেবে ইয়াবা ট্যাবলেট সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। ইয়াবার পরের অবস্থানে রয়েছে গাঁজা, ভারতীয় ফেনসিডিল, হেরোইন ও ফেথিডিনসহ নানা ধরনের ইনজেকশন। দেশের মোট মাদকাসক্তদের মধ্যে ৭০ শতাংশ ইয়াবা আসক্ত। এদের বেশির ভাগেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছর এবং বিভিন্ন কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়া ধারণা করা হচ্ছে, কোকেন ও ক্যাপটাগন (সাদা ইয়াবা) নামে দুটি ব্যয়বহুল মাদক সীমিত আকারে হলেও রাজধানীর অভিজাত পরিবারে ঢুকে পড়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবাধে মাদক ঢুকে পড়ছে। নৌপথেও পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ থেকেও মাদকের বড় বড় চালান দেশে ঢুকে পড়ছে নির্বিঘ্নে। অভিযোগ রয়েছে এক শ্রেণির অসৎ জনপ্রতিনিধি ও সীমান্তরক্ষীদের যোগসাজশে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছে মাদকের বিশাল চালান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন প্রশাসনের ভেতর একটি সিণ্ডিকেটও সক্রিয় রয়েছে এর পেছনে।
সচেতন মহল মাদকের ব্যবহার ও মাদকাসক্তি বিষয়ে তাদের গভীর পর্যবেক্ষণে মতামত দিয়ে জানিয়েছেন, মাদকের আগ্রাসন জঙ্গি দমনের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় । বলার অপেক্ষা রাখে না, মাদক এবং সন্ত্রাস পরস্পরের হাত ধরে চলে। একটি অপরটির সম্পূরক। দেশে মাদকের পেছনে যে কুচক্রী মহল রয়েছে তারা মূলত সংঘবদ্ধ এবং তাদের একটি বিরাট অংশ জঙ্গিবাদ এবং এর অর্থায়নের সঙ্গেও জড়িত। এ ছাড়া মাদকসহ জঙ্গিবাদ এবং এর মদদদাতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও জোরদার এবং কঠোর করতে হবে যাতে আইনের ফাঁক দিয়ে কেউ বেরিয়ে যেতে না পারে। এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্যের ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থের লোভ প্রায়শঃই বহুবিধ অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। কিন্তু বদনামের ভাগ বর্তায় সমগ্র বাহিনীর উপর।
মাদক শুধু আমাদের সমাজকে ধংস করছেনা ক্ষতি করছে বাংলাদেশের অর্থনীতিও। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করতে আমাদের করণীয় কী? তা নিয়ে ভাবনার সময় চলে এসেছে। কারণ এই লোভনীয় ব্যবসার হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিযোগ। প্রভাবশালীর মহলে রয়েছে বিনিয়োগ। প্রতিদিন দেশে নেশাদ্রব্যের পেছনে জাতীয় অপচয় হচ্ছে প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ২ দশমিক ২ শতাংশের বেশি | আইন প্রয়োগকারী সংস্থাদের দাবি প্রভাবশালি মহলের সহযোগীতা ছাড়া মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। প্রভাবশালিদের কারণে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রভাবশালিদের প্রভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু সদস্যও মাদক ব্যবসা সক্রিয়ভাবে জড়িত।
ডিএনসি মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা স্বীকার করে দেশে ৬০ লাখের মতো মাদকাসক রয়েছে। তবে বেসরকারী গবেষণা ও জরিপে এই সংখ্যা ৮২ লাখের বেশী।
মাদকদ্রব্যের প্রতি মারাত্মক আসক্তি ব্যক্তি জীবনে যেমন সর্ব্বনাশ সৃষ্টি করছে, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিকে স্থবির করে দিচ্ছে, সর্ব্বনাশ করছে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, মুদ্রা ব্যবস্থা। একটিভ ২০-৪০ ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন ২০০২ সালে মাদক জরিপ পরিচালনা করে দেখে, মাদকাসক্তদের ৩৮ দশমিক ১৬ শতাংশ বেকার শ্রেণী, ২৯ দশমিক ১৫ শতাংশ ব্যবসায়ী, ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী এবং ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ পেশাদার আসক্ত। এছাড়া ৭১ দশমিক ২৫ শতাংশ মাদকাসক্ত ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী। একই জরিপে প্রকাশ করা হয়, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে মাদকাসক্তরা বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে। ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সমীক্ষা অনুযায়ী ২০০৫ সালে একজন মাদকাসক্তের দৈনিক নেশার খরচ ছিল গড়ে প্রায় ১৫০ টাকা। গত ৭/৮ বছরে মাদকদ্রব্যের তালিকায় নতুন নতুন দামী মাদক যোগ হয়েছে। সহজলভ্যতা, বেকারত্ব বৃদ্ধি, কালো টাকার আধিক্য, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ ইত্যাদি কারণে মাদকাসক্তের মিছিল দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। গত বছর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, রাজধানীর মাদকাসক্তদের ৭৯ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ ও ২০ দশমিক ৬ শতাংশ মহিলা। মাদকাসক্তদের ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশই অবিবাহিত।
যাদের ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ হয় ছাত্র, নতুবা বেকার। এক লাখেরও বেশি লোক প্রত্যক্ষভাবে অবৈধ মাদক বাণিজ্য ও সরবরাহের সাথে জড়িত। সমীক্ষায় দেখা যায় আইনের চোখকে ফাঁকি দিতে মাদক বহন ও বিপণনে নারী ও শিশুদের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আইসিডিডিআরবি'র উক্ত সমীক্ষায় বেরিয়ে আসে, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদক ব্যবহারজনিত ব্যয় বছরে ৫৬ হাজার ৫৬০ টাকা থেকে ৯০ হাজার ৮শ' টাকা। গড়ে দৈনিক মাদকের জন্য ব্যয় হয় ১৩০ টাকা। গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মাদকাসক্ত ব্যক্তির দৈনিক গড় ব্যয় হয় ৭শ' টাকা। চোরাচালান তথ্যে এটা স্পষ্ট যে, বানের পানির মতো আসা মাদকদ্রব্যের মাত্র ৯ শতাংশ ধরা পড়ে। বাকীগুলো বিভিন্ন চেইনের মাধ্যমে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছায়।
ডিএনসি, গোয়েন্দা বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ দেখা যায় প্রতিদিন দেশে ভোগ্য-ব্যবহার্য মাদকের পেছনে অপচয় হচ্ছে প্রায় ২৮ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা যা জিডিপির ২ দশমিক ২ শতাংশের বেশি। আটককৃত মাদক ধ্বংস, অপরাধমূলক কর্মকান্ড, বিপুল জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা, মাদকসেবী বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের উপাদনক্ষমতা বিনষ্ট ইত্যাদি বাবদ আরো হাজার হাজার কোটি টাকা ধ্বংস হচ্ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান মাদক চোরাচালানীদের বরাত দিয়ে জানান, সীমান্ত এলাকায় এক বোতল ফেনসিডিল বিক্রি হয় ৩ থেকে সাড়ে ৩শ' টাকা। কিন্তু ঢাকায় তা বিক্রি হয় ৫ থেকে ৬শ টাকা। উৎসস্থলের দাম ধরে শুধু গতবছরের ডিএনসি ও বিজিবির জব্দকৃত বোতলজাত ফেনসিডিল বাবদ দেশ থেকে পাচার হয়েছে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। ঐ বছর উক্ত দুটো বিভাগের জব্দকৃত হেরোইন বাবদ পাচার হয়েছে অন্তত: ১৫৮ কোটি টাকা। পর্য়বেক্ষক মহল এতে উদ্বিগ্ন হলেও নীতিনির্ধারকদের মাথাব্যথা নেই।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা কেনা থেকে শুরু করে রাজধানীতে পৌঁছাতে কাজ করছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এর মধ্যে কয়েকটি স্তর রয়েছে। টেকনাফের পাইকারি বিক্রেতারা ইয়াবা কিনে আরেক শ্রেণীর ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তর করেন। তারা বিশ্বস্ত লোকজনের মাধ্যমে নানা কৌশলে ইয়াবা ঢাকার পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছান। যাদের বলা হয় ডিরেক্টর পার্টি। পরে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা কিনে নেন খুচরা বিক্রেতারা।
মিয়ানমারের মংডু এলাকায় ৪-৫টি কারখানা শুধু বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে ইয়াবা তৈরি করা হয়। পাচার রুট থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্ত হযে আকিয়াব-মংডু দিয়ে টেকনাফ ও মহেশখালী হয়ে বাংলাদেশে আসে। মিয়ানমারের মংডু হতে বিভিন্ন প্রকার ফিশিং বোট ও কাঠের বোটের মাধ্যমে, টেকনাফের স্থলবন্দর, শাহীপরীর দ্বীপ, মাঝিরপাড়া, জালিয়াপাড়া, ট্রানজিট ঘাট, নাইট্যংপাড়া, সাবরাংয়ের লেজিপাড়া ও বার্মাপাড়া ইত্যাদি পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা আসছে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক প্রবেশ প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হলেও তা কার্যকর হয় না। বিভিন্ন সংস্থার কতিপয় কর্মকর্তার সাথে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সখ্যতা এর অন্তরায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের যোগাইন্যা এলাকা থেকে থানচি পর্যন্ত অরক্ষিত এলাকায় ইয়াবাসহ মাদক ও অন্যান্য চোরাচালানিদের শক্তিশালী কয়েকটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারাই ঐ এলাকা দিয়ে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক নিয়ে আসছে। গত পাঁচ বছর ধরে কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৪০ গডফাদার। এদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক জনপ্রতিনিধিও। শুধু টেকনাফে রয়েছে ২০টি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। কক্সবাজারে রয়েছে ২১ শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী।
সূত্র জানায়, সিন্ডিকেট সদস্যরা ভারত, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার থেকে ইয়াবাসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ মাদক পাচার করে নৌপথ দিয়েই। কক্সবাজার ও টেকনাফসহ সীমান্ত এলাকায় রয়েছে তাদের বেশ কিছু নকল ইয়াবা তৈরির কারখানা। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে তা সরবরাহ করা হয় স্থলপথেই। এমনকি গাড়িতে ‘প্রেস’ 'সাংবাদিক' স্টিকার ও বিভিন্ন এনজিওর’র মনোগ্রাম লাগিয়েও মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয় মোটরসাইকেলের পাশাপাশি পাজেরোসহ দামি গাড়িও। ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্যের বড় চালানগুলো মূলত সমুদ্রপথেই বেশি আসে। স্থলপথে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু চালান আসলেও পরিমাণে তা কম। নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত পথ ধরে মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন সময় অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। এরাই পাচারকারী দলের মাঠ পর্যায়ের কর্মী।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, দফায় দফায় সীমান্ত বৈঠক ও দীর্ঘ আলোচনা হলেও ফেনসিডিল চোরাচালান বন্ধের ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য সফলতা আসেনি। বাংলাদেশে ফেনসিডিল চালানের জন্য ওপার সীমান্তে গড়েওঠা নকল ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশে একশ্রেণীর যুবসমাজ ও মাদকসেবীদের কাছে ফেনসিডিলের ব্যাপক চাহিদার কারণে আসলের পাশাপাশি নকল ফেনসিডিল তৈরি হচ্ছে। ওপারের একাধিক সূত্র বলেছে, বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে নকল ফেনসিডিল তৈরী হয়। চিটা গুড় গুলিয়ে তাতে নেশার ট্যাবলেট মিশিয়ে নকল ও ভেজাল ফেনসিডিল তৈরি করে প্যাকিং ও রিপ্যাকিং করে পাঠানো হচ্ছে এপারে। দেশের অন্যান্য সীমান্তের চেয়ে কলকাতা নিকটবর্তী হওয়ায় তুলনামূলকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সীমান্তপথে ভারত থেকে ফেনসিডিল ঢোকে বেশী। সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া এই ৬টি সীমান্ত জেলার শতাধিক পয়েন্ট দিয়ে ফেনসিডিল ঢুকছে। যার একটা অংশ আটকও হচ্ছে বিজিবি, র্যা ব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে। কিন্তু তারপরেও ফেনসিডিল ঢোকা বন্ধ হচ্ছে না। কোনভাবেই ফেনসিডিল চালান রুখে দেয়া যাচ্ছে না। এই চিত্র অতিপরিচিত হয়ে গেছে সীমান্তবাসীদের কাছে।
সীমান্তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বাসে, ট্রাকে, প্রাইভেট কারে ও মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন বাহনে এবং বিভিন্ন সকল বিভাগ ও জেলা শা/পন্থায় সৰ্বনাশা ফেনসিডিল পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সকল বিভাগ ও জেলায়, নগর, শহর এমনকি গ্রাম এলাকার বড় হাট-বাজারে। সবজি, বই, গ্যাস সিলিন্ডার, ট্রাকের চেসিজে, প্রাইভেট কারের সিটের নীচে লুকিয়েসহ অভিনব পন্থায় ফেনসিডিল চালান হচ্ছে একস্থান থেকে আরেক স্থানে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আসলেই দেশে মাদকের ভয়াল থাবা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন উপ-পরিচালক বললেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২ লাখ বোতল ফেনসিডিল আটক হয় বিভিন্ন সংস্থার হাতে। যার আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি টাকা। সাধারণত চোরাচালানের সর্বোচ্চ ১০ ভাগ আটক হয়। বাকি ফেনসিডিল মাদকসেবীদের হাতে সব পৌঁছে যায়।
লেখকঃ জাকির হোসেন; সিনিয়র সাংবাদিক ও সাধারণ সম্পাদক, এন্টি ড্রাগ সোসাইটি।
মন্তব্য করুন